বরিশালে চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এম,এ আজাদ সজলকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছোটভাই ডাঃ শাহারিয়ার উচ্ছাস বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানায়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রাসেল জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের আটক করা হয়েছে তাদের আদালতে সোপর্দ করার মতো যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমান এখনও পাওয়া যায়নি।
এ কারনে আটক ১০ জনের মধ্য থেকে ৬জনকে বাড়ির মালিকের জিন্মায় ফের প্রয়োজন হলে মুহূর্তের মধ্যে হাজির করার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এই হত্যার ক্লু উদঘাটনের জন্য অপর ৪জনকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। প্রয়োজন হলে সন্দেহভাজন আরও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার হবে বলে জানান সহকারী কমিশনার মো. রাসেল।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মসজিদ প্রাঙ্গনে তার প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার ছোট ভাই ডাঃ শাহারিয়ার উচ্ছাস লাশ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়া যাবে।
ডাঃ এম.এ. আজাদ সজলের পরিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্টের পাশাপাশি তিনি নগরীর কালীবাড়ি রোডের মমতা স্পেশালাইজড ক্লিনিকের চেম্বারে রোগী দেখতেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর সোহাগদল গ্রামে। তবে তার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে থাকেন।
মঙ্গলবার সেহেরির সময় ঢাকা থেকে তার স্ত্রী মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও না পেলে এ বিষয়ে তিনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে তার কক্ষের দরজা ভেঙ্গেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ১০ তলা হাসপাতালের সব জায়গাতে তন্নতন্ন করে খুঁজে লিফটের নীচে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
