“করোনা মহামারীতে চীনের মিথ্যা তথ্যের জবাব চাওয়া উচিত ইউরোপীয় কমিশনের”
সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের মাহামারী নিয়ে চীনের দেওয়া ভুল তথ্যের ব্যাখ্যা ও তদন্তের জন্য দেশটির সরকারকে চাপ দিতে ইউরোপীয় কমিশনের(ইসি) কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভ এন্ড রিফর্মিস্ট(ইসিআর) পার্টি।
ইসিআর এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি পলিটিকো এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ‘চাইনিজদের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফল হিসেবে ভুল তথ্যের একটি প্রতিবেদন থেকে চীনের সমালোচনা করা ভাষা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল’ এমন একটি বিষয় উঠে আসে।
বিষয়টির ব্যাখ্যা চেয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরুসুলা ভন দের লেয়েন এবং হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ জোসেপ বোরেলকে গত ২৭ এপ্রিলের ওই চিঠিটি লিখেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (এমইপি) স্প্যানিশ মেম্বার হারম্যান টার্তচস।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চীনের চাপে কোভিড-১৯ গুজবের উপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের হালকা প্রতিবেদন’ অর্থাৎ চীনের চাপ আসার পরে ইউরোপীয় কমিশন একটি প্রতিবেদনকে হালকা করেছে।
প্রতিবেদনটির শুরুতে বলা হয়, ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল একশন সার্ভিসের দেওয়া প্রতিবেদন থেকে চায়নার ব্যবহার করা মিথ্যা তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং চীনের বিরুদ্ধে হালকা স্বরে সমালোচনা করেছে ওই প্রতিবেদনে।
চিঠিতে এমইপি হারম্যান টার্তচস লিখেছেন, যদি এটিই হয় তাহলে এটি অবিশ্বাস্যভাবে জড়িত। ইউরোপীয় কমিশনকে দেওয়া চাপ নিজেই এর জন্য খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। বিশৃঙ্খলা, অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এমন কিছু নয় যা হালকা ভাবে মোকাবেলা করা উচিত।
ইউরোপীয় কমিশন বিশ্বাস করে যে, যদি চীনা হস্তক্ষেপের প্রমাণ থাকে তাহলে তা জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। এটি এশিয়া এবং পশ্চিমা উভয় দেশের একাধিক সূত্রের সঙ্গে একই লাইনে থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এমন মিথ্যা তথ্য, গুজবের আগেও অনেক প্রমাণ রয়েছে। চলমান মহামারীতে চীনের এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে উপস্থাপনের দাবি করছি।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক কূটনৈতিক লুজ গুলনার ই-মেইলে তার সহকর্মীদের জানিয়েছেন, ‘ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করলে প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে হুমকি দিচ্ছে চীনারা’।
আর এই মেইলটি দেখে নিশ্চিত করেছে দ্যা টাইমস।ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে জবাব চেয়ে চিঠিতে ওই এমইপি বলেছেন, সত্যি কি ইউরোপীয় কমিশনের কাছে কোভিড-১৯ এর বিস্তার নিয়ে চীনা সরকারের মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কোনো প্রমাণ আছে? যদি তাই হয় তাহলে ইউরোপীয় কমিশন তাদের সদস্যদের সতর্ক করতে এবং সাধারণ মানুষকে জানাতে কী পদক্ষেপ নেবে? একই সঙ্গে কোন প্রমাণ আছে কী না যে, ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল সার্ভিস (ইইএএস) কী কোন ভাবে চীন দ্বারা প্রভাবিত ছিল? যদি চীনের কোনো প্রভাব থাকে বা না থাকে সে ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এএনআই।
