সিলেটে পানিবন্দি তিন লাখ মানুষ, হুমকির মুখে নগরী
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেটে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন লক্ষাধিক মানুষ।
সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫ স্থানে ডাইক (নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ) ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার ৫ হাজার ৬০১ হেক্টর জমির ফসল। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সিলেটের সব পর্যটন কেন্দ্র। জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ বন্যা কবলিত হয়েছে।
পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেট-তামাবিল সড়ক। গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেট নগরীর বেশকিছু এলাকায়ও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।
নগরীর মাছিমপুর, মেন্দিবাগ, আলমপুর বুধবারই বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। ঝুঁকিতে আছে নগরীর কালীঘাট, শেখঘাট, কাজির বাজারসহ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কেএম আব্দুল ওয়াদুদ যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সিলেটে বন্যা দুর্গতদের সহায়তার জন্য ২০ লাখ নগদ টাকা, জিআর খাত থেকে ৫শ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়া গোখাদ্য ক্রয়ের জন্য ১০ লাখ এবং শিশুখাদ্য ক্রয়ের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে সিলেট ব্যুরো জানায়, চলতি মাসে সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। গত বছর মে মাসে ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবার মে মাসে হয়েছে ৭০৫ মিলিমিটার।
এর আগে ২০২২ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার সময়ে মে মাসে সিলেটে ৮৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও গোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বাড়ছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৪২ হাজার ৯০০ পরিবার দুর্যোগকবলিত। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩৫৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি জানান, মানুষের পাশাপাশি ৬৪৫টি গবাদিপশুর আশ্রয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলায় ১০টি মেডিকেল টিম চালু করা হয়েছে। কৃষিজমি তলিয়ে গেছে ১ হাজার ৬৬০ হেক্টর।
সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানান, পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে ও নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় জরুরিভিত্তিতে প্রায় ৪৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
প্রয়োজনে তা বাড়ানো হবে। জেলা প্রশাসন জানায়, জেলায় জরুরিভিত্তিতে ৪৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
এরমধ্যে গোয়াইনঘাটে ৫৬টি, জৈন্তাপুরে ৪৮টি, কানাইঘাটে ১৮টি, কোম্পানীগঞ্জে ৩৫টি, জকিগঞ্জে ৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বাকি আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অন্যান্য উপজেলায় রয়েছে।
সিলেটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান জানান, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে মোট ৫ হাজার ৬০১ হেক্টর আউশ ধান, আউশ বীজতলা ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে।
