ব্রেকিং নিউজঃ

মুক্তিযোদ্ধার পূর্ণাঙ্গ তালিকা: অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়

জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৩তম বিজয় দিবস উদযাপন করছে। পরিতাপের বিষয়, এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি।

এক সরকারের আমলে করা তালিকা অন্য সরকার সংশোধন করেছে; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার তালিকা আজও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। তাই জনমনে প্রশ্ন-কবে চূড়ান্ত হবে এ তালিকা?

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন আর শুনানি হবে না।

আপিল শুনানিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মামলা বা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধের কারণে যেসব উপজেলায় যাচাই-বাছাই শেষ হয়নি, সে বিষয়ে পরবর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কখনো এ তালিকা আলোর মুখ দেখবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) দেশের ৮ বিভাগের জন্য আটজন খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধাকে প্রধান করে আটটি কমিটি গঠন করে ২০১৯ সাল থেকে তালিকাভুক্তির জন্য আপিল শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের কারণে বন্ধ রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য জামুকার কর্মচারীরা প্রচুর অর্থ দাবি করে থাকেন।

দাবি না মেটাতে পারলে দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি হতে হয় হয়রানির শিকার। অনেকের নামও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ২০ হাজার টাকা করে সরকার সম্মানি ভাতা দিয়ে থাকে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে ১০ হাজার করে দুটি বোনাস, বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা এবং নববর্ষে ২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি খেতাবপ্রাপ্ত, শহিদ ও যুদ্ধাহত ১০ হাজার ৯৯৬ জন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সম্মানি ভাতা পেয়ে থাকেন।

স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা তৈরি করতে না পারা দুঃখজনক। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা তাদের প্রাপ্য।

কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কারণে নয়, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। এমনকি অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ পর্যন্ত নেননি।

অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েও অনেকে কারচুপির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নাম লিখিয়েছেন। তারা নিশ্চয়ই গর্হিত কাজ করেছেন। এমনকি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থানকারী কিছু কর্মকর্তা পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়েছিলেন চাকরিতে দুই বছর বেশি থাকার জন্য।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন থেকেই জনদাবি রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ বিধিবহির্ভূতভাবে যারা গেজেটভুক্ত হয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে অমুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিতে হবে।

সেক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে অবশ্যই। তবে খেয়াল রাখতে হবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন এ প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়েন। তেমনটি ঘটলে সেটি হবে অত্যন্ত দুঃখজনক।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে যারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের অবশ্যই ছেঁটে ফেলা দরকার। তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় আর দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

August 2026
F S S M T W T
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031