ইউক্রেনকে জোটে আনতে ‘ইতিবাচক সংকেত’ দিচ্ছেন ন্যাটো নেতারা
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অ্যালায়েন্সের (ন্যাটো) নেতারা ইউক্রেনকে সামরিক জোটটিতে যোগদানের ইচ্ছার বিষয়ে ‘একটি স্পষ্ট ও ইতিবাচক সংকেত’ পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন মহাসচিব জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ। তিনি বলেন, ‘অন্য প্রার্থীদের মতো সদস্যপদ পেতে কিয়েভকে এত বেশি কর্ম পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
লিথুয়ানিয়ায় দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনের আগে মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্টলটেনবার্গ। ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনকে জোটভুক্ত করতে ‘একটি সদস্যপদ কর্ম পরিকল্পনা’র (এমএপি) প্রয়োজনীয়তাকে এড়িয়ে যাবে।
এটিতে যোগ দিতে সাধারণ দুই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিয়েভের জন্য তা ‘এক-দপক্ষেপ’ প্রক্রিয়ায় আনা হবে। অর্থাৎ ন্যাটোকে জোটটিতে অন্তর্ভুক্তির শর্ত শিথিল করা হচ্ছে।
ন্যাটোর মহাসচিব জানান, ইউক্রেনকে ন্যাটোভুক্ত করতে এমআরপি বাইপাস করতে চাই ন্যাটোর সদস্যরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনীয় বাহিনী ও ন্যাটো বাহিনী কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাটোভুক্ত দেশের অস্ত্র ব্যবহার করে এ পদক্ষেপ অনেকটা তরান্বিত করেছে কিয়েভ।
কিয়েভও একটি নতুন ইউক্রেন-ন্যাটো কাউন্সিলের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে ন্যাটোর সঙ্গে আবদ্ধ হতে চায়। যার উদ্বোধনী বৈঠক বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন স্টলটেনবার্গ।
জেলেনস্কিসহ ইউক্রেনের কর্মকর্তারা লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে শীর্ষ সম্মেলনের সময় জাতিকে ন্যাটোতে যোগদানের জন্য একটি কংক্রিট রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য ন্যাটোকে আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রত্যাশা পূরণ না হলে অনুষ্ঠান বয়কট করার হুমকি দিয়েছেন জেলেনস্কি।
২০০৮ সালে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে একটি শীর্ষ সম্মেলনে ন্যাটো প্রথম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ইউক্রেন জোটে যোগদান করবে। মস্কো সেই সময় সতর্ক করেছিল যে, এ ধরনের পদক্ষেপ একটি রেড লাইন অতিক্রম করবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার এক বছর আগে ২০২১ সালে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের আলোচনা বেশ খানিকটা এগিয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের দ্বারা পরে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
