স্কুল বন্ধুদের নিয়ে লেখা আমার ছড়াখানা
এ রব স্কুলের বন্ধুরা সব মিজানুর রহমান মিজান
এ রব স্কুলের বন্ধুরা সব আছিস কে কোথায়?
যেথায় থাকিস ভাল থাকিস রাখিস মনে তথায়।
ছিলাম আমরা সবাই সেই ‘৯১ সালের ব্যাচে,
খেলাধুলা করতাম অনেকেই স্কুলের যে কোন ম্যাচে।
ভলিবল মাঠে ছিলাম তখন আমি তুখোড়,
বল নিয়ে নেমে যেতাম থাকলে ও রৌদ্র প্রখর।
স্ম্যাশ আর মিডল ম্যানে দু’জায়গায়ই খেলতাম আমি,
ভলিবল মাঠের এ জায়গা দুটো সবাই জানে দামী।
স্কুল হ্যান্ডবলে ও আমরা ভোলায় ছিলাম সেরা,
যা খেলেছি সেই স্কুলেই আর হয়নি মাঠে ফেরা।
ফুটবলে এক গোল দিয়েছিলাম ভোলা জেলা স্কুলকে,
মাঝেখানে খেলা পন্ড করল আর শেষ হল না যে।
খেলাধুলা যার ছিল প্রান সেই ছোট্ট বেলা থেকে,
সেই ছেলে এখন ঘরে বসে ছড়া কবিতা লেখে।
আরো লিখে আমার মিতা না বলা যত কথা,
তার লেখা পড়ে চোখ ভিজে যায় মনে লাগে খুব ব্যথা।
অনি ঘুরে পাঙ্খার মত ঢাকা কলকাতা দুবাই ,
মনির, খোকন ও সাথে থাকেঘুরে দেখি তারা সবাই।
মশু আছে গ্রামীন ব্যাংকে মিরপুর তার অফিস ,
দেশে থাকতে বলল না একবার দেখা করতে আসিস।
উজ্জল সে তো হাওয়া সেই অনেক আগে থেকে,
শুনছি মাল ভালই কামায়আর ঘরেই সে থাকে।
সুভাসকে দেখি অনলাইনে মাঝে মাঝে দেয় উঁকি,
মন চায় যে সবার কথাই দু’চার লাইন একটু লিখি।
জাহিদ এখন জজ গর্ব করি তাকে নিয়ে ,আড্ডা দিয়েছিলাম তার বাসায় ঢাকায় এবার গিয়ে।
সায়মন বন্ধু সেনা অফিসার এখনও সেই চির সবুজ,
স্বাস্থ্যখানা রেখেছে ঠিক চেহারা মাশ আল্লাহ্ টমক্রুজ।
দেলোয়ার মামা আছেন ভোলায় কথা হয় মাঝে মাঝে ,
আড্ডাবাজি দেন না মামা থাকেন শুধুই কাজে।
আজাদ বন্ধু থাকে বরিশাল ব্যবসায়ী সে এখন,
উকিল পাড়া গেলেই তার সাথে দেখা করতাম তখন।
মিজানের সেই সাইকেলের দোকান শুধুই এখন ইতিহাস,
সকাল বিকাল আড্ডা দিতাম ভোলায় যে যখন যাস।
ফারজানা শিরীন স্কুল টিচার বন্ধু আমাদের,
গর্ব করি নিয়ে তাকে চাকুরী তার সম্মানের।
আকবর আলী ভদ্র আর খুব নিরীহ টাইপের ছেলে,
আমেরিকা পাড়ি দিয়েছে সেই ঈসা খাঁর আমলে।
গোরস্থান রোডে বাসা ছিল বন্ধু মঈনুদ্দিনের,
আর কেউ নয় ভাতিজা সে ভোলার দানবীর নিজামউদ্দিনের।
ইসমাইল এখন চাকুরী করে আশা এনজিওতে ,
লালমোহনে থাকে সে দেশে আসে একটু শীতে।
জাকির বন্ধুর কথা কি মনে আছে তোদের,
বারো ভাই ছিল তারা পদবী ভূঁইয়া ছিল যাদের।
এমরান আসত সাদা ড্রেস পরে শার্ট ইন আর মান্জা মেরে ,
পড়া জিজ্ঞেস করলে সে দাঁড়িয়ে চুলটা নিত একটু নেড়ে ।
শাহজালাল ছিল পড়ুয়া ছেলে বন্ধুই ছিল তার বই,
কোনদিন দেখিনি ভোলা শহর তাকে করতে টইটই ।
রতনপুর থেকে আসত মোহন ডিস্কো সাইকেল চালিয়ে ,
ফেসবুকেতে আছে জানি কিন্ত থাকে সে পালিয়ে।
কালাম নামে ছিল একজন হেড স্যারের ভাগিনা ,
৯১ এর পর যে নিঁখোজ হল আর কোন খোঁজ মিলল না ।
মিঠু টিটু নামে ছিল জমজ দুটি ভাই , একজনের ও কোন খবর আমার কাছে নাই।
মিজান নামে ক্লাসে ছিল আরও গোটা চারজন,
দুইজনের খবর জানি বাকীদের খবর ঠনঠন।
অধমের ছিল না যে কোনই গুনাগুন,নুন আনতে তার পান্তা ফুঁড়ায় আর পান্তা আনতে নুন।
অনেক সহপাঠী ছিলাম আমরা স্কুলে একই সাথে,
বন্ধু যদিও হয়নি সবাই ক্ষতি হয়নি কিছু তাতে।
পান্ডুলিপি সংরক্ষিত ।
