ব্রেকিং নিউজঃ

যে শর্তে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন আসামিরা

১০০টি বৃক্ষ রোপণসহ বিভিন্ন শর্তে টানা ৭ বছর আদালতে হাজির হওয়ায় অভিযুক্তদের কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

তারা পরিবারের সঙ্গে সংশোধনের সুযোগ পাবেন; তবে প্রত্যেকের ১০০টি করে গাছ লাগাতে হবে। এছাড়া কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না।

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহম্মদ আলী আহসান এ ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক রায় দেন।

আদালত উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, লঘুদণ্ডে অনেকেই কারাগারে গিয়ে আসামির সংস্পর্শে ভবিষ্যতে গুরুতর অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠেন। প্রবেশনের ফলে নিজেকে সংশোধন ও অপরাধ প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে অভিযুক্তরা উৎসাহী হবেন। দেশের কারাগারগুলোয় প্রায় প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত আসামি রাখা হচ্ছে। প্রবেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লঘু শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীরা সমাজের মূল স্রোতধারায় ফিরে আসবে ও কারাগারগুলো মাত্রাতিরিক্ত কয়েদি হতে ভারমুক্ত হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ মৌলভীবাজারের জুড়ী থানার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর চন্দন কুমার দাস বাদী হয়ে অভিযুক্ত কবির আহমদ ও মুহিবুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩২৩ ধারার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

পরে অভিযুক্তদের জীবনে প্রথমবারের মতো অপরাধ বিবেচনায় ও তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর না হওয়ায় এবং আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রায় ৭ বছর নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার কারণে আদালত তাদের কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেন।

আসামিদের ১০০টি গাছ রোপণ, নতুন করে কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়া, মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা, শান্তি রক্ষা ও সদাচরণ করা, আদালতের নির্দেশমতো হাজির হওয়া ইত্যাদি শর্তে মুক্তি দেন আদালত। এ শর্তগুলো প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রবেশন কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করবেন।

আদালতের পিপি রাধাপদ দেব সজল বলেন, অধ্যাদেশটি অনেক পুরনো হলেও প্রয়োগ ছিল না। অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনার আলোকে মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে এর দৃশ্যমান প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাবেক পিপি এএসএম আজাদুর রহমান বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী কারাগারে আবদ্ধ কক্ষে নয়, মুক্ত বাতাসে পরিবার-পরিজনের সান্নিধ্য পাবেন; যা অভিযুক্তদের সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদরুল হোসেন ইকবাল বলেন, প্রথম ও লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে প্রবেশন খুব ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে অভিযুক্ত নিজেদের সংশোধনের চমৎকার সুযোগ পাচ্ছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

September 2026
F S S M T W T
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930