ভোট কি যুদ্ধ যে জেলনস্কির মতো মাঠে থাকতে হবে: রুমিন ফারহানা

বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, দেশে যদি নির্বাচনেই না থাকে, মানুষ যদি তার ভোটই প্রয়োগ না করতে পারে, মানুষ যদি তার পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে না পারে, আগে থেকে যদি ব্যালটে বাক্স ভরা থাকে, দিনের ভোট যদি রাতে হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন দিয়ে হবে কী?

হস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট পাশের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দের ওপর আনীত ছাটাই প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন।

তারা নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে কেয়ারটেকার সরকারের দাবি জানান।

বক্তব্যের জবাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তাদের (বিএনপি) দাবি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আইন হয়েছে। এখন কেয়ারটেকার সরকারের দাবি করছে। কিন্তু এই প্রশ্নে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বাইরে এক সুতাও ছাড় দেওয়া হবে না।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত কেয়ারটেকার সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, ‘নির্বাচন যে এখন একটা মল্লযুদ্ধ, তার একটা বড় প্রমাণ এই নির্বাচন কমিশন শপথ নেওয়ার পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন জেলনস্কির মতো বিএনপিকে মাঠে থাকতে হবে।

ভোট কি একটা যুদ্ধ, যে জেলনস্কির মতো বিএনপিকে মাঠে থাকতে হবে? আর এক কমিশনার বলেছেন- মেশিনে কোনো সমস্যা নাই, সমস্যা হচ্ছে গোপন কক্ষে যে ডাকাত ঢুকে থাকে।

এই ডাকাত যে শুধু দলীয় ক্যাডার তা নয়, এরমধ্যে আছে পুলিশ ও প্রশাসন। এই ডাকতদের যেভাবে পুরস্কৃত করা হয়, সেই পুরস্কার দেখে বোঝা যায় ভবিষ্যতে আরও ডাকাত বাড়বে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একজন ডাকাতের উদাহরণ হলো হেলালুদ্দিন সাহেব। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় যিনি নির্বাচন কমিশনে সচিব ছিলেন।

তাকে পরবর্তীতে প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। তিনি অবসরের ২৪ ঘণ্টা আগে ইউরোপ সফর করে আসেন। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে যে ইউরোপ সফরে গিয়েছিলেন সেটা সম্ভবত তিনি অবসরের পর কাজে লাগাবেন।

এভাবে যদি ডাকাতদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়, তাহলে এই দেশে নির্বাচন কোনো দিন সুষ্ঠু হবে না। বিনাভোটে সংসদ গঠন চলতেই থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মাত্র একজন এমপির হুমকি-ধামকি এই নির্বাচন কমিশন সহ্য করতে পারেনি। বার বার তাকে অনুরোধ করা হয়েছে, চিঠি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাকে এলাকা থেকে সরানো যায়নি।

নতজানু ও মেরুদণ্ড ভাঙা অবস্থা দেখে বোঝা যায়, এই ইসির অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।’

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, নির্বাচন করে কারা? নির্বাচন করে রাজনৈতিক দল। স্টেকহোল্ডার হচ্ছি আমরা যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। আমরা যদি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না করি তাহলে ঘরে বসে নির্বাচন কমিশন কোনো দিন কোনো কিছু করতে পারবে না। সবকিছু স্বাধীন। প্রকান্তরে কোনো নির্বাচন কমিশন কোনো দিন স্বাধীন না।

সব কমিশনই সরকার দ্বারা গঠিত হয়, সরকারের অধীনে কাজ করে। এটা আয়ুব খানের আমলে হয়েছে, জিয়াউর রহমানের আমলে হয়েছে, আমাদের আমলে হয়েছে, এখনো হচ্ছে। এটা চলতেই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে যদি সক্ষমতা নিয়ে না দাঁড়াতে পারে, প্রতিদ্বন্দ্বীরা যদি সমকক্ষ না হয়, তাহলে জয়ী হবে কীভাবে?নির্বাচনে কেউ হারতে চায় না। নির্বাচন হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্র। স্থানীয় প্রশাসন যেদিকে শক্তি দেখে, যার লোক দেখে সেন্টারে, তার দিকে চলে যায়। কিছু করার থাকে না।

যারা ক্ষমতায় আছে, জনগণ তাকে সমর্থন করে। দুর্বল নেতৃত্বে কেউ কিছু করতে পারে না। সমকক্ষ লোক নির্বাচনে আসলে ভোট সঠিক হবে। ইভিএম বলেন, আর ব্যালট বলেন লোক যার বেশি সেই বিজয়ী হবে।’

ডা. রস্তুম আলী ফরাজী বলেন, ‘ইলেকশন কমিশনের দায়িত্বই হচ্ছে নির্বাচন পরিচালনা করা। নির্বাচন সঠিক হতে হবে, ফেয়ার হতে হবে। প্রশ্ন থাকতেই পারে নানা ব্যাপারে। ভারতে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়, সেখানে কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না।

আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে ওই ধরনের পরিবেশ আসা দরকার। ডিজিটাল যুগে ইভিএমের কোনো দোষ নাই। ইভিএমের সমস্যা থাকলে সেটা পরিবর্তন করতে হবে। পেছনে যেন কেউ না থাকে, সেটা দেখতে হবে।

ইভিএমে না হয়ে যদি ব্যালটে হয়, সেখানেও তো কেউ, না কেউ প্রভাব ফেলতে পারে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচনে প্রভাব খাটানো বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

August 2022
FSSMTWT
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031