ব্রেকিং নিউজঃ

চোরাচালান বন্ধে কঠোর অবস্থানে বিএসএফ

বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএসএফ।

কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখেই  বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গরু চোরাচালানের বিষয়টি সর্বাত্মক নজরদারিতে রেখেছেন ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা।

গরুসহ যেকোনো চোরাচালান রোধে বিএসএফ, বিজিবি সীমান্তে সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সোমবার (২৭ জুন) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ এর আমন্ত্রণে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএসএফ পশ্চিমবঙ্গ সাউথ বেঙ্গল ফন্টায়ারের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এস এস গুলেরিয়া এ তথ্য জানান।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু গরু নয়, যেকোনো চোরাচালান রোধে আমরা  সতর্ক রয়েছি। বর্তমানে এ বিষয়টি আমাদের কন্ট্রোলের মধ্যে রয়েছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে।

তিনি আরও বলেন,স্বর্ণ চোরাচালান মানব পাচার মাদক পাচার এবং গরু চোরাচালানকারীদের অপ-তৎপরতার কারণেই বিভিন্ন জায়গায় সীমান্তে হত্যার ঘটনা ঘটে। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় তারা নানা অপরাধমূলক অপ-তৎপরতার কারণে ই এ ধরনের ঘটনায় সম্মুখীন হন। এসব ঘটনায় ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরাও বিভিন্ন সময় চোরাকারবারীদের হাতে গুরুত্বর আহত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সঙ্গে সমন্বয় করে বিএসএফ সীমান্তে নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিবির সঙ্গে বিএসএফের মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক, পাক্ষিক বৈঠক হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দু’দেশের দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান বিএসএফের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে সোমবার রাত সাড়ে ১০ টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা কলকাতার টাকী শহর থেকে সীমান্ত পযর্ন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সীমান্ত ঘুরে দেখানো হয় সাংবাদিকদের। দেখা যায় রাতে নদী ও স্থলপথে একই সঙ্গে টহল দেওয়া হচ্ছে।

বিএসএফ ও স্থানীয় লোকজন জানান, এক সময় টাকী নদী হয়ে প্রতিদিন শত শত গরু ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হতো। গরুগুলো এমন পদ্ধতিতে বিশেষ কৌশলে নদী দিয়ে পাচার করা হতো, যা প্রতিরোধকারী সংস্থার নজরে যথাযথ আসতো না। গরুকে বিশেষ ইনজেকশন দিয়ে মুখ বেঁধে ( যাতে গরু শব্দ না করতে পার) নদী পার করা হতো। একই সঙ্গে চোরাকারবারীরাও টাইয়ার, হাওয়া বালিশ শরীরে বেঁধে নদী পার হতো।  বর্তমানে ৯৫ শতাংশ গরু চোরাচাল কমেছে জানিয়ে এক বিএসএফ কর্মকর্তা বলেন, চোরাকারবারীদের কৌশলগুলো জেনে যাওয়ায় তা রোধ করতে সম্ভব হচ্ছে।

জানা গেছে, টাকী শহর হয়ে ইছামতী নদীর দুপাশে যেসব গ্রাম রয়েছে, এসব গ্রামের কিছু মানুষ এ চোরাকারবারীর সঙ্গে জড়িত। নদীর দুপাশে ১০টি গ্রাম রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতার কিংবা বেড়া রয়েছে। একই  সঙ্গে রাতের বেলায় পুরো সীমান্ত তার ঘেঁষে বৈদ্যুতিক লাইট রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে লাইট চোখে পড়েনি।  সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সাইটে রাতের বেলায় লাইট লাগানো নিশ্চিত করা হলে চোরাচালান আরও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

September 2026
F S S M T W T
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930