ব্রেকিং নিউজঃ

অভিনেত্রী শিমু হত্যার দায় স্বীকার নোবেল ও ফরহাদের

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলায় তার স্বামী খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও স্বামীর বাল্যবন্ধু এসএম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আসামি খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেল বিচারিক সাইফুল ইসলামের আদালতে এবং আসামি আব্দুল্লাহ ফরহাদ সিনিয়র বিচারিক হাকিম মিশকাত শুকরানার আদালতে জবানবন্দি দেন। এর পর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগমের আদালত এ আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদ মিলে নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওই দুজনের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, দাম্পত্য কলহের কারণে স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ মিলে নিজ বাসায় গলাটিপে হত্যা করে শিমুকে।

সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির বলেন, ১৬ জানুয়ারি সকালে নোবেলের গ্রিন রোডের বাসায় হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। ঘটনার কিছু সময় আগে সেখানে উপস্থিত হন ফরহাদ।

ফরহাদ নোবেলের বাল্যবন্ধু। প্রায় ৪০ বছরের সম্পর্ক তাদের। ফরহাদ ছিল বেকার। মাঝে মধ্যে সে নোবেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলত।

১৬ জানুয়ারি সকালে দুই হাজার টাকা ধার নিতে ফরহাদ নোবেলের বাসায় যায়। এ সময় তাকে চা দেন শিমু।

ফরহাদ ড্রয়িং রুমে বসে চা খাচ্ছিল। এরই মধ্যে পাশের বেডরুমে নোবেল ও শিমুর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।  দুজনই উচ্চবাচ্য করতে থাকেন।  হইচই শুনে ফরহাদ ড্রয়িং রুম থেকে শিমুর বেডরুমে যায়।

এ সময় মেজাজ হারিয়ে শিমুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় নোবেল। সেখানে ফরহাদ হাজির হলে নোবেল তাকে সহায়তা করতে বলে।

ফরহাদ ছিল নোবেলের বাধ্যগত। এ জন্য সে নোবেলের কথামতো শিমুকে চেপে ধরে। এর পর দুজন মিলে গলাটিপে হত্যা করে শিমুকে।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শিমুর ব্যবহৃত গাড়িতে মরদেহ তোলা হয়। এর পর সেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে নোবেল ও ফরহাদ। সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও গাড়ি থেকে লাশ ফেলার সুযোগ পায়নি।

পরে তারা আবার গ্রিন রোডের বাসায় চলে আসে। এর পর সন্ধ্যায় আবার গাড়ি নিয়ে বের হয়। ঘুরতে ঘুরতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের হজরতপুরের আলীপুর ব্রিজের কাছে যায়। জায়গাটা নির্জন এবং লোকজনের উপস্থিতি না থাকায় সেখানে লাশ ফেলে তারা গাড়ি নিয়ে যান।

পর দিন সকালে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই নারীর ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031