‘ক্ষমতা গ্রহণের জন্য’ প্রেসিডেন্ট প্যালেসে তালেবান প্রতিনিধিরা
বড় ধরনের যুদ্ধ ছাড়াই ক্ষমতা ‘হস্তান্তর’-এর প্রস্তুতির জন্য তালেবানের পক্ষ থেকে একটি সমঝোতাকারী দল আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের দিকে রওয়ানা হয়েছে।
রোববার (১৫ আগস্ট) নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আফগান কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আফগান সরকারের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল তালেবানের হাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
অবশ্য তালেবান নেতারাও জানিয়েছেন, তারা জোরপূর্বক কাবুল দখল করতে চান না।
এর আগে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবান। চারপাশ দিয়ে একযোগে রাজধানীতে প্রবেশ করছে তারা।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তালেবান বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আলজাজিরা।
আলজাজিরা বলছে, তালেবান যোদ্ধারা কাবুলে প্রবেশ করা শুরু করলেও এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সরকার পাল্টা হামলার পথ বেছে নেবে নাকি আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেবে।
মার্কিন সেনাসহ সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যেই আফগানিস্তানজুড়ে সরকারি বাহিনী ও তালেবান যোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা গত কয়েক সপ্তাহে হঠাৎ করে বেড়ে যায়। বিশেষ করে তালেবানের দিক থেকে ঝড়ের গতিতে একের পর এক শহর দখলের তৎপরতা দেখা যায়। সবশেষ ১০-১২ দিনের প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রদেশ দখলে নিয়েছে তালেবান। শনিবার পর্যন্ত তারা রাজধানী কাবুলের ১১ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যায়।
রোববার (১৫ আগস্ট) ভোরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশের রাজধানী শহর জালালাবাদ দখলে নেয় তালেবান যোদ্ধারা। আফগানিস্তানের পঞ্চম বৃহত্তম এই শহরটি রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ৮০ মাইল পূর্বে অবস্থিত।
এর আগে শনিবার চতুর্থ বৃহত্তম আফগান শহর মাজার-ই-শরীফও দখলে নেয় তালেবান। এরপর আজ (রোববার) দুপুরের দিকে রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করা শুরু করে তালেবান যোদ্ধারা। আফগানিস্তানের বড় শহরগুলোর মধ্যে একমাত্র রাজধানী কাবুলই তালেবানের দখলে যেতে বাকি আছে।
