ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর মাতৃভাষায় শিশুর প্রথম পাঠ
শিশুদের মন কোমল ও স্নিগ্ধ। অন্যভাবে বলা যায়, তাদের মন আসলে মাটির মতো নরম। তাকে যা শেখানো হবে তাই সে প্রথমে আয়ত্ত করবে।
জন্মের পর শিশু প্রথম বুলি শেখে তার মায়ের কাছ থেকে। দেশভেদে ভাষা আলাদা হলেও প্রত্যেক শিশু তাদের মায়ের কাছ থেকে যে ভাষা শেখে সেটাই মাতৃভাষা।
আর সেটি যে আয়ত্ত করে তার নিজের মতো করে। তাছাড়া এক দেশেও রয়েছে নানান ভাষা।
শাস্ত্রও বলে শিশুর প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার মাতৃভাষায়।
মাতৃভাষা পাঠের মধ্য দিয়ে তার মধ্যে শুধু তার ভাষা নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ভেতরে প্রবেশ করে। আমরা বাঙালি, ভাষার জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছি।আমাদের ভাষার রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
মাতৃভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাস, ঐতিহ্য একটি শিশুর মধ্যে প্রথিত হয়।
তাই বাঙালি শিশুদের প্রথম পাঠ হতে হবে বাংলায়। ঠিক এমনিভাবে চাকমা বা মারমা শিশুর প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার নিজস্ব ভাষায়।
আমাদের অনেক অভিভাবকের একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, ইংরেজিটা কঠিন আর ওটা শিখতেই হবে। তাই শিশুর প্রথম পাঠ তারা ইংরেজিতে করান।
এটি একটি ভুল ধারণা। বাংলা ভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে শিশু তার মাতৃভাষার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হন।
সেটি আয়ত্ত করার পর বা পাশাপাশি ইংরেজির পাঠ নিতে পারে।
এটাই হওয়া উচিত।
শিক্ষাবিদ ও লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মানব শিশু মাতৃভাষার পরিমণ্ডলে জন্মগ্রহণ করে। তাই তার প্রথম পাঠ হওয়া উচিত তার মাতৃভাষায়।
কারণ মাতৃভাষায় প্রথম পাঠের মধ্য দিয়ে তার মধ্যে নিজস্ব যে সংস্কৃতি রয়েছে সেটি প্রবেশ করে। ভাষা তো শুধু ভাষা নয়, এর মধ্যে শব্দ, দ্যোতনা, নানা বিষয় থাকে।
সেগুলোর মধ্য দিয়ে একজন মানুষ নিজেকে আত্মপ্রকাশ করে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম নেয়।
কারও মাতৃভাষা যদি ইংরেজি হয় তাহলে সে ইংরেজিতেই প্রথম পাঠ নেবে। অর্থাৎ মাতৃভাষাতেই প্রথম পাঠ নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষা শেখার পরই আমাদের অন্য ভাষা শেখা উচিত। ভাষার সঙ্গে যেহেতু সংস্কৃতি যুক্ত সেদিক থেকে বাংলা আমরা প্রথমে শিখব।
সেটা না করে যদি প্রথমেই ইংরেজি বা অন্য ভাষার পাঠ নেওয়া হয় তাহলে সেটা অনেকটা পোশাকি বা তোতা পাখির বলনের মতো হয়ে যায়।
কারণ সেটার সংস্কৃতি আলাদা। আমাদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষাও শেখা উচিত। সেটারও একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
