ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর
একুশ মানে চেতনার সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে যাওয়া
একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে চেতনার সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে যাওয়া। চেতনার শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমরা এগিয়ে চলেছি।
শুধু ভাষার এ মাসে নয়, একুশ সারা বছরই আমাদের শক্তি জোগায়। বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষাকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ আনন্দলগ্নে একুশের আবেদন বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। এ পথে এগিয়ে যেতে মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন আমাদের প্রেরণা জোগায়, একইভাবে প্রেরণা জোগায় ভাষা আন্দোলনও।
বাঙালিই সেই জাতি, যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ সারা বিশ্বে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন
‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। তাই একুশ আমাদের গর্ব।
ফেব্রুয়ারি এলে মাতৃভাষার প্রতি আমাদের দরদ অনেকটাই বেড়ে যায়। কারণ এ সময়ে আমরা ১৯৫২ সালের স্মৃতি স্মরণ করি।
স্মরণ করি সেই সব অকুতোভয় সংগ্রামীকে, যারা ভাষার জন্য রাজপথে নেমেছিলেন, প্রাণ দিয়েছিলেন।
বাংলা ভাষার প্রতি প্রচণ্ড মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটে ফেব্রুয়ারির নানা আয়োজনে। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় ঋদ্ধ আমাদের অমর একুশে গ্রন্থমেলা।
কোভিড পরিস্থিতির কারণে এবার বইমেলা শুরু হবে ১৮ মার্চ থেকে।
তবে লেখক সমাজ ইতোমধ্যেই বাংলা ভাষার প্রতি তাদের ভালোবাসা জানিয়ে কবিতা, গল্প, উপন্যাস রচনা করেছেন অতীতের মতোই।
সেগুলো বই আকারে প্রকাশের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
আমরা এখন প্রযুক্তি বিশ্বে বসবাস করছি। ইন্টারনেট, ফেসবুক ছাড়া আমাদের চলে না।
এ সময়ে এসে আমরা কি ইংরেজির প্রতি আরও অনুরক্ত হয়ে পড়ছি? মোটেই না। বরং দিনে দিনে আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলা চর্চায় আরও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে উঠছি।
এর উদাহরণ পাওয়া যায় ফেসবুকে লাখো লাখো বাঙালির নানা পোস্ট ও স্ট্যাটাস দেখেই।
লক্ষ্য করলে দেখতে পাই, বছর কয়েক আগেও যেখানে ইংরেজিতে মানুষ মনের ভাব ফেসবুকে প্রকাশ করত, এখন বেশিরভাগ মানুষ বাংলা অক্ষর ও বাংলা ভাষা ব্যবহার করেই তার মনেরভাব প্রকাশ করছে।
এটা যে শুধু বাংলাদেশে বসবাসকারীরা করছেন, তা কিন্তু নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাংলাভাষী মানুষও বাংলায় তাদের ভাবের প্রকাশ করছেন।
দিকে দিকে এখন বাংলা ভাষার জয়যাত্রা। দাপ্তরিক অনেক কাজ এখন বাংলায় হয়।
সর্বস্তরে বাংলার যে প্রচলন, তা কিছুটা হলেও এগিয়েছে। বাংলা ভাষার এ অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে।
