চিরস্থায়ী নিরপেক্ষতা: তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি এবং ভূরাজনীতির মূল ভিত্তি
যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তাদের অনেকেই জানেন যে, ইউরোপীয় রাষ্ট্র সুইজারল্যান্ডকে ‘নিরপেক্ষ রাষ্ট্র’ (neutral state) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
সাধারণত যেসব রাষ্ট্র বিশ্বে বিদ্যমান সামরিক–রাজনৈতিক জোটগুলোর কোনোটিতে যোগদান থেকে বিরত থাকে, তাদেরকে ‘নিরপেক্ষ রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
এদিক থেকে সুইজারল্যান্ডকে পুরোপুরি নিরপেক্ষ বলা যায় কিনা, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ, কারণ সুইজারল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক অবস্থান যেমনই হোক, কার্যত এটি ঘনিষ্ঠভাবে পশ্চিমা সামরিক–রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, এবং বিশ্ব সম্প্রদায় আনুষ্ঠানিকভাবে সুইজারল্যান্ডকে ‘নিরপেক্ষ রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেনি।
কিন্তু বিশ্বে এমন একটি রাষ্ট্র রয়েছে, যেটির পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে ‘চিরস্থায়ী নিরপেক্ষতা’ (permanent neutrality)। এই রাষ্ট্রটি কোনো সামরিক–রাজনৈতিক জোটে অংশগ্রহণ তো করেই না, তদুপরি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে এই রাষ্ট্রটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে।
এমনকি নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে রাষ্ট্রটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে অংশগ্রহণ করা থেকেও বিরত থাকে। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে রাষ্ট্রটিকে ‘নিরপেক্ষ রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে, এবং এদিক থেকে এটি বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র আন্তর্জাতিক আইনগতভাবে স্বীকৃত ‘নিরপেক্ষ রাষ্ট্র’।
এই রাষ্ট্রটি হচ্ছে মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত বৃহত্তর তুর্কি জাতিভুক্ত মুসলিম–অধ্যুষিত রাষ্ট্র তুর্কমেনিস্তান। মধ্য এশিয়ার দক্ষিণ–পশ্চিম কোণে অবস্থিত প্রাক্তন সোভিয়েত রাষ্ট্র তুর্কমেনিস্তান।
৪,৯১,২১০ বর্গ কি.মি. আয়তনবিশিষ্ট রাষ্ট্রটির রাজধানী আশগাবাত।
দেশটির প্রায় ৮০% অঞ্চলই কারাকুম মরুভূমিতে আচ্ছন্ন, ফলে এটি মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে জনবিরল রাষ্ট্র এবং এর বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ।
রাষ্ট্রটির জনসংখ্যার সিংহভাগ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং জাতিগতভাবে বৃহত্তর তুর্কি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
তুর্কমেনিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত বক্তব্য অনুযায়ী, তুর্কমেনিস্তান একটি ‘গণতান্ত্রিক, আইনভিত্তিক, ধর্মনিরপেক্ষ’ রাষ্ট্র, যদিও বিশ্লেষকরা এটিকে একটি ‘স্থিতিশীল ও অত্যন্ত কর্তৃত্ববাদী’ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।
