• আজঃ শনিবার, ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং
  • English

নদীতে বাঁধ নির্মাণ করবে চীন, উদ্বেগ ভারত ও বাংলাদেশে

ব্রহ্মপুত্রনদীতে চীনের বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে ভারতের নতুন করে বৈরিতা সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশেও চীনের এই পরিকল্পনাকে ঘিরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পানি সরবরাহের জন্য ব্রহ্মপুত্র’র ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশ।

গত নভেম্বর নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা দেয় চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন। তবে নির্মাণ কাজ এখনও শুরু হয়নি।

চীনের পরিকল্পনা নিয়ে বেশকিছু আপত্তি জানিয়েছেন ভারতের বিশ্লেষকরা।

তাদের আশঙ্কা, বাঁধটি নির্মাণ হলে ভারতে অকস্মাৎ বন্যা বা পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

অপরদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠেছে।

এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে চীনের যেই অতি-সামরিকীকৃত সীমান্ত রয়েছে, তার এত কাছে বাঁধ নির্মাণ করলে কৌশলগত সুবিধা পাবে বেইজিং।

বাঁধটি নির্মাণ হবে চীনের বিতর্কিত অঞ্চল তিব্বতে। এই অঞ্চল আবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের নিকটবর্তী।

এই বাঁধ থেকে ৬০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে চীনা গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এখন অবধি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ হচ্ছে ইয়াংজি নদীতে চীনের ‘থ্রি গর্জেস ড্যাম’।

কিন্তু পরিকল্পিত বাঁধটি এর চেয়েও তিনগুণ বড় হবে বলে জানা গেছে।

নয়া দিল্লিভিত্তিক মনোহর পরিকর ইন্সটিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের জগন্নাথ পান্ডা বলেন, ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে, আন্তঃদেশীয় একটি নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে চীনের একপাক্ষিক পদক্ষেপ গ্রহণ।

তিনি উল্লেখ করেন, বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পটি এমন সময় প্রকাশ করা হয়েছে যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সম্পর্কের অবনমন ঘটেছে।

বলেন, ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি পানির ইস্যুও জুড়ে দিতে চাইছে চীন।

চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিয়ং বলেন, বাঁধটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চীনকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে পানি নিরাপত্তাও জোরদার করবে।

তার মতে প্রকল্পটি চীনের জন্য ‘ঐতিহাসিক এক সুযোগ’ সৃষ্টি করেছে।

নয়া দিল্লির সামরিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বিতর্কিত সীমান্তের এত কাছে বাঁধ নির্মাণকে ভারতের জন্য গুরুতর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন।

নয়া দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক দিল্লি পলিসি গ্রুপের ব্রিগেডিয়ার অরুণ সাহগাল বলেন, চীন সেখানে এত বৃহৎ স্থাপনা তৈরি করলে, সেখানে আকাশপথে ব্যবহার করা যায় এমন অস্ত্র ব্যবস্থাও মোতায়েন করবে। রাস্তা বানাবে, গড়ে ওঠবে নতুন জনপদ।

তিনি বলেন, বিতর্কিত একটি সীমান্তের এত কাছাকাছি এরকম প্রকল্প বিশাল এক ‘রেড লাইন’ হয়ে দাঁড়ায়। এতে ভারতের সামরিক পরিস্থিতি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

January 2021
FSSMTWT
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031