• আজঃ বৃহস্পতিবার, ১৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং
  • English
ব্রেকিং নিউজঃ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রত্যাশা চীনের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন চীনের স্টেট কাউন্সেলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অনাকাঙ্ক্ষিত জটিল একটি পিরিয়ড শেষে এই সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরে আসবে।

এদিকে ভারতের বিরুদ্ধে চীনের সামরিক আগ্রাসনবিরোধী একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রে আইনে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্পের ভেটো উপেক্ষা করে ৭৪ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট কংগ্রেসে পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হয়।

মার্কিন সামরিক বাজেট আইনের একটি প্রস্তাবনা ছিল লাদাখে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে ভারতের বিরুদ্ধে চীনের আগ্রসন বন্ধ করতে হবে। আলজাজিরা, পিটিআই।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিলে চীন সরকারকে উদ্দেশ করে ভারত-চীন সীমান্ত-লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে ভারতবিরোধী আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

গত বছরের মে মাস থেকে লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জুনে দেশ দুটির সীমান্ত সংঘাতে প্রাণ যায় ২০ ভারতীয় সেনার।

ওই সময় চীনেরও সেনা হতাহতের দাবি করেছিল ভারত। তবে চীন তা স্বীকার করেনি।

তার থেকে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় মস্কোতে চীন-ভারত শান্তি বৈঠক হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

দুই দেশেরই বাড়তি সেনা মোতায়েন রয়েছে বরফ ও পাহাড়বেষ্টিত বিপজ্জনক সীমান্তে।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিল আইনে পরিণত হওয়া ও সেখানে চীনকে আগ্রাসন বন্ধ করতে বলার বিষয়টি ভারতের জন্য ইতিবাচক।

ট্রাম্পের চার বছরের শাসনামলে চীন-মার্কিন সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।

পরস্পরবিরোধী বাণিজ্য যুদ্ধে দুপক্ষেরই আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন বছর যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নিচ্ছেন জো বাইডেন।

ফলে দেশটির সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন ‘পরিবর্তনের বাঁকে’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনা শীর্ষ কূটনীতিক।

করোনা ভাইরাস ইস্যু, বাণিজ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায়।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন চীনের কয়েক ডজন কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে এসব কোম্পানির সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।

সিনহুয়াসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় মিডিয়াকে শনিবার দেওয়া সাক্ষাৎকার স্টেট কাউন্সিলর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনের বিষয়ে যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, তা উভয় দেশের স্বার্থের জন্যই ক্ষতিকর।

এটা বিশ্বের জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। এখন উভয় পক্ষের সামনে সুযোগ এসেছে আশা নিয়ে সম্পর্কের নতুন দুয়ার খুলে দেওয়ার এবং নতুন করে আলোচনা শুরু করার।

গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী বাইডেন ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা হাতে নেবেন।

তার বিজয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে উত্থান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেই সূত্রে চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। গত মাসে ওয়াং ই আশা প্রকাশ করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত বাইডেন ওয়াশিংটনের চীনা নীতিতে বাস্তবিক উন্নতি ঘটাবেন এবং আগের অবস্থানে নিয়ে যাবেন।

যদিও বাইডেন বাণিজ্য ও অন্যান্য ইস্যুতে চীনের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

সাক্ষাৎকারে কারো নাম উল্লেখ না করে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন যে সামাজিক ও উন্নয়নের পথ বেছে নিয়েছে তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

তিনি ট্রাম্প-বাইডেন কারো নাম না নিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে তাহলে উভয় পক্ষের মধ্যকার সংঘাত সমাধান করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মানুষ চীনের দ্রুত অগ্রগতি দেখে হতাশ।

কিন্তু সবচেয়ে টেকসই নেতৃত্বের উচিত নিজেকে অব্যাহতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া।

এ ক্ষেত্রে অন্য দেশের অগ্রগতি আটকে বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর