ব্রেকিং নিউজঃ

সাক্ষাৎকারে ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন অপেক্ষা করো দেশ স্বাধীন হচ্ছে

ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ বীরোত্তম-তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ‘পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের’ পাইলট ছিলেন।

একজন সিভিলি পাইলট হয়েও দেশমাতৃকার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে পরে ফাইটার পাইলট হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন।

হাতেগোনা যে কজন বৈমানিক একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বর্বরতা ও গণহত্যার পটভূমি, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৬৮ সালে আমি যখন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের পাইলট হিসেবে যোগদানের সুযোগ পেয়েছিলাম, তখন বঙ্গবন্ধু ছয়-দফা ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা জাগিয়ে তুলেছিলেন।

তিনি চেয়েছিলেন বাঙালি স্বাধীন সত্তা নিয়ে আত্মসম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যাক। পাশাপাশি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেগে উঠুক।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সে (পিআইএ) কর্মরত বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের একটি স্বতন্ত্র এয়ারলাইন্স স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলাম।

এর মধ্যে আমরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কয়েকবার সাক্ষাৎও করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু আমাদের আলোচনা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।

১৯৭১ সালের ৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে স্বতন্ত্র এয়ারলাইন্স স্থাপনের কথা বলেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, অপেক্ষা করো, সময় আসছে।

আমাদের দেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে। এখনই স্বতন্ত্র এয়ারলাইন্সের প্রয়োজন নেই। কারণ মুক্ত দেশের এয়ারলাইন্স থাকে।

আমরা তার চিন্তা বুঝতে পারলাম। এরপর ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু দৃশ্যত স্বাধীনতার ডাক দিলেন।মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৭০ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশে) ১০ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। সেসময় পাকিস্তান আমাদের কোনো ধরনের সাহায্য করেনি।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভের এটিও আরেকটি অন্যতম কারণ। এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু জয়ী হন।

সেসময় থেকে আমরা মানসিকভাবে স্থির করেছিলাম বাঙালির জন্য একটি স্বাধীন দেশ প্রয়োজন। তারপর থেকে পাকিস্তান সরকারের নানা কার্যকলাপের কারণে বাঙালি তাদের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৮ মার্চ থেকে পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া পূর্ব পাকিস্তান ছাড়ার পর সেদিন রাতে নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক-হানাদার বাহিনী।

ঢাকা শহরের মানুষ তাদের নির্মম হত্যা ও বর্বরতার শিকার হয়। চারদিকে মানুষের কান্নার রোল। কিন্তু কেউ তাদের সাহায্যের জন্য ছিল না।

এমনই প্রেক্ষাপটে বাঙালি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐক্যবন্ধ হয়ে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে বলা হলেও এ সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031