তথাকথিত উন্নয়নের শ্লোগানের আড়ালে দেশের মানুষ সব মৌলিক অধিকার ,আত্মমর্যাদা হারাচ্ছে- সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
তথাকথিত উন্নয়নের শ্লোগানের আড়ালে দেশের মানুষ সব মৌলিক অধিকার ,আত্মমর্যাদা হারাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ।
গত কয়েকদিন ধরে দেশে সদ্য সমাপ্ত বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারী বিভিন্ন সংস্থার সহযোগীতায় ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া, ভোট কেন্দ্র দখল, হামলা -মামলা,গ্রেফতার ,লুটসহ বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে তিনি এসব কথা জানান।
আজ নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের মানুষের পের নিপীড়নের সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি জানান, আমরা ক্রমেই আমাদের অধিকার ও আত্মমর্যাদা কেড়ে নেয়া হচ্ছে।
ঘরে বাইরে কোথাও মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। খুন, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ এবং বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায়-পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় মোটা দাগে নারী ও শিশু ধর্ষণের খবর এখন যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২০ সালে আজ পর্যন্ত এমন একটি দিনও বাদ যায়নি যেদিন রাজধানী কিংবা দেশের কোথাও নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত হয়নি।
বর্তমান অবৈধ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিন্ন দল ও মতের মানুষদেরকে অপমান নির্যাতন করা হচ্ছে, আইন আদালতকে নিজেদের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের উপস্থিতিতে কর্মীসভার ওপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গুলিবর্ষণসহ বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, যুগ্ম সম্পাদক আলী আশরাফসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বিএনপি’র পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক পুলিশী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।
আগামী ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ঢাকা-১৮ এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী দুঃশাসন বিরোধী গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধারের আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এই উপ-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেই যেন সরকার ও আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়। তারা বিএনপি-কে যেমন ভয় পায় তেমনি জনগণের অংশগ্রহণে উৎসবমূখর পরিবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকেও ভয় পায়।
তারা জানে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাদের ভরাডুবি সুনিশ্চিত।
সেজন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া মাত্রই আওয়ামী লীগ নির্বাচনী বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিেেয় দলীয় ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে বিএনপি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, মামলা, হুমকি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শণের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশকে ধ্বংস করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নির্বাচনকে ব্যর্থ করে দিতে চায়।
ঢাকা-১৮ ঃ
গত ২২ অক্টোবর ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে ৪৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও দক্ষিণখান থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর আলীর নেতৃত্বে দক্ষিণখান গার্লস স্কুল রোডে নুরবিলাস এ্যাপার্টমেন্টের নীচতলায় কর্মীসভা চলাকালে সেখানে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারাত্মকভাবে আহত করে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাট চালায়।
সেখানে রক্ষিত প্রায় ১০টি গাড়ী ও মটরসাইকেল ভাংচুর করে তারা। তাদের হামলায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলী আকবর আলী, থানা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি কর্মী ফারুক মোল্লা, থানা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হাসিনা বেগম, যুবদল নেতা আতিক, ফারুকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
গত ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে কামারপাড়ার রানাভোলায় বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান এর বাড়ীতে আওয়ামী লীগের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়ীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
গত ২৫ অক্টোবর ৪৫ নং ওয়ার্ডের শাহ কবির মাজার থেকে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল, যা পূর্বেই স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছিল।
কিন্তু আওয়ামী লীগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হঠাৎ করে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগের স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে পুলিশী পাহারায় জায়গা দখল করে রাখে।
সেখানে পুলিশ বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপি নেতা ইঞ্জি: ইশরাক হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদেরকে সেখানে যেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
নির্বাচনী শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে গণসংযোগ না করে বিএনপি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা অন্যত্র গণসংযোগ করেন।
