আশুলিয়ার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা
পাওনা টাকা উদ্ধারে বিচার চাইতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণী।
আজ রোববার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৯-এর বিচারক হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়।
বিচারক মামলার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন আশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন (৫০), শ্যালক মো. আলমগীর (৩৮) ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব সবুজ সিকদার (৩৫)।
মামলার আরজি থেকে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী আশুলিয়া বাজারে সালাউদ্দিন আহম্মেদ শাওন নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা পান। দীর্ঘদিনেও ওই ব্যক্তি টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না।
এ ঘটনার বিচার চাইতে গত ২২ সেপ্টেম্বর এক আত্মীয়কে নিয়ে ওই তরুণী আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের কাছে যান।
সেখানে না পেয়ে তাঁরা চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। চেয়ারম্যান তাঁকে পাওনা টাকা ফেরত পেতে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
পরে তাঁরা চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু আলমগীর ও সবুজ সিকদার তাদের পথরোধ করেন।
আরজি থেকে আরো জানা যায়, আসামিরা পথরোধ করে বলেন, ‘তোমাদের আগমন সন্দেহমূলক। তোমরা চেয়ারম্যানের ক্ষতি করার জন্য এখানে এসেছ। কী কারণে এখানে এসেছ?
না বললে তোমাদের পিঠের চামড়া তুলে নেব।’ তখন ওই তরুণী তাদের বলেন, ‘পাওনা টাকার বিচার দিতে চেয়ারম্যানের কাছে এসেছি।
’ তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করে আসামিরা মারধর করতে থাকেন। পরে আসামিরা তাঁদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। তাদের দুজনকে দুই রুমে আটকে রাখেন।
দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন রুমে ঢুকে ওই তরুণীকে মারধর করেন এবং পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন।
পরে তাঁকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা চালান। শাহাব উদ্দিন রুম থেকে বের হওয়ার পর আলমগীর ও সবুজ রুমে প্রবেশ করে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
তারা ওই তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতন চালান। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেন আসামিরা।
