টেকনাফে ২০৪ জন ক্রসফায়ারেও ছিল এসপি মাসুদের সম’র্থন!
সাবেক সে’না কর্মক’র্তা মেজর সিনহার হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর আলোচনায় আসে ওসি প্রদীপ দাশের অন্ধকার জগতের তথ্য।
ক্রসফায়ার ‘বাণিজ্য’ ও মা’দক ব্যবসায় ম’দত দেয়ার মাধ্যমে টাকা কামানোর নে’শায় পরিণত হয়েছিল প্রদীপের।
কিন্তু তিনি কী’ একাই এই কাজ করেছেন? না। তার সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজারের পু’লিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনও।
গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের ভাষ্যে উঠে এসেছে এসপি মাসুদের নানা অনিয়মের তথ্য।
মূলত তার আশকারায় ওসি প্রদীপসহ একাধিক সদস্য বেপরোয়া কর্মকা’ণ্ড চালিয়ে আসছিলেন দিনের পর দিন।
টেকনাফে ২০৪ ক্রসফায়ারেও ছিল এসপি মাসুদের সর্মথন।
সর্বশেষ প্রদীপের নি’র্যাতনের শিকার হয়ে ১১ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া জনতারবাণী পত্রিকার সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফা অ’ভিযোগ করেন ওসি প্রদীপের বিষয়ে তিনি এসপিকে জানিয়েছিলেন কিন্তু প্রদীপের বি’রুদ্ধে লিখার কারণে তিনি উল্টো থাকে শাসিয়ে দেন।
কক্সবাজারে মা’দকবিরোধী অ’ভিযানের নামে দু’র্নীতি, টাকার বিনিময়ে মা’দক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়া, বড় মা’দক ব্যবসায়ীদের না ধরে চুনোপুঁটিদের ধ’রা, ক্রসফায়ার বাণিজ্য, অ’ভিজাত হোটেল থেকে চাঁদা আদায় ওসংশ্লিষ্ট জে’লার জামায়াত নেতাদের পুনর্বাসনের অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে তার বি’রুদ্ধে। প্রশ্ন উঠছে, সিনহা হ’ত্যাকা’ণ্ডে পু’লিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের ভূমিকা নিয়েও।
ওসি প্রদীপ বা লিয়াকতের মতো কয়েকজনের বি’রুদ্ধে লাগাতার অ’ভিযোগ এলেও তাদের বি’রুদ্ধে বড় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি জে’লা পু’লিশ।
অ’ভিযু’ক্ত পু’লিশের বি’রুদ্ধে শা’স্তিমূলক ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকতো কক্সবাজারেরএক থা’না থেকে অন্য থা’নায় বদলি করার মাঝেই।
তাদের কর্মকা’ণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সায় ছিল এসপি’র। এসপি’র স্ত্রী’ জেনিফার মুনের নামে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়া ছাড়াও নামে-বেনামে বহু সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে একটি সংস্থার প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।
বরিশাল জে’লার মেহেন্দিগঞ্জের দক্ষিণ ওলানিয়া ইউনিয়নের রাজা’পুর গ্রামের আব্দুল কাদের হাওলাদার ও অজুফা খাতুনের ছে’লে এবিএম মাসুদ হোসেন ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
শি’বিরের একজন নেতার মাধ্যমে তিনি ইস’লামী ব্যাংকে চাকরি নিয়েছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।
জোট সরকারের আমলে ২৪তম বিসিএসে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শ্বশুরের পরিচয়ে তিনি সুবিধা নেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য পেয়েছে।
সূত্র জানায়, ইয়াবার নামে হয়’রানি, মিথ্যা মা’দক মা’মলায় ফাঁ’সিয়ে অর্থ আদায় নইলে ক্রসফায়ারে দেয়াসহ নানা অ’ভিযোগ এসেছে তার বি’রুদ্ধে।
কথিত আছে-উড়ন্ত ইয়াবা ডন হিসেবে চিহ্নিত ১০২ জন মা’দক ব্যবসায়ীকে কোটি টাকার বিনিময়ে আত্মসম’র্পণের নামে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে মা’দক বহনকারী চুনোপুঁটিদের। এতে ইয়াবার রাজ্য কক্সবাজারে যেমন ছিল তেমনই আছে। সূত্র জানায়, কক্সবাজারে প্রায় ৩০০টি অ’ভিজাত হোটেল রয়েছে। এইসব হোটেল থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা উৎকোচ নেয়ার অ’ভিযোগ রয়েছে তার বি’রুদ্ধে।
যদি কোনো হোটেল মালিক ওই টাকা দিতে রাজি না হন তাহলে ওই হোটেলে অ’বৈধ কারবার হয়- এমন মিথ্যা দাবি দিয়ে বন্ধের হু’মকি দেয়া হয়।
ওই সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কক্সবাজার এলাকায় মা’দকের যেসব ব্যবসায়ী ব’ন্দুকযু’দ্ধের শিকার হয়েছে তার অধিকাংশই খুচরা ব্যবসায়ী।
যারা ইয়াবার কারবার করে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়েছেন, গড়েছেন বড় বড় রাজকী’য় অট্টালিকা তারা থাকেন ধ’রা ছোঁয়ার বাইরে।
অ’পারেশন শুরু হওয়ার আগেই তাদের পু’লিশের পক্ষ থেকে সংকেত দেয়া হল বলে সূত্রের দাবি। সরকারি সংস্থার ত’দন্ত সূত্র বলছে, মহেশখালীর ৬৮ জন জলদস্যুর আত্মসম’র্পণের ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছিলের ওসি প্রদীপ।
এ ঘটনায় প্রদীপকে সা’সপেন্ড করার নির্দেশ থাকলেও ১৫ দিনের মা’থায় প্রদীপকে টেকনাফের ওসির দায়িত্ব দেন এসপি মাসুদ। অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকে গত ৩১শে জুলাই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভের চেকপোস্টে গু’লি করে হ’ত্যা করেন এসআই লিয়াকত।
ঘটনার পরই লিয়াকত ও ওসি প্রদীপ এসপি মাসুদের সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলেন।
এ নিয়ে ওসি প্রদীপও কথা বলেন পু’লিশ সুপারের সঙ্গে। তাদের কথোপকথনের অডিও প্রকাশ্যে আসায় এসপির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
