নাইজেরিয়ায় জঙ্গি হামলায় সেনাসদস্যসহ ৬০ জন নিহত
নাইজেরিয়ায় জোড়া জঙ্গি হামলায় ২০ সেনাসদস্য ও ৪০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোরনো প্রদেশের মোনগুনো ও এনগানজাই এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর কয়েকদিন আগেই জঙ্গিরা গুবিও এলাকার একটি গ্রামে হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় নিহত হয় অন্তত ৬৯ জন। খবর রয়টার্স।
দুই মানবাধিকার কর্মী ও তিন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছে, জঙ্গিরা রকেট লঞ্চারের মতো ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে মোনগুনোতে আসে। মোনগুনোয় বেসরকারি অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে। এখানে এসেই তারা সরকারি বাহিনীকে পরাস্ত করে ফেলে। এ সময় জঙ্গিদের মধ্যে অনেকে আহত হলেও মারা যায় অন্তত ২০ জন সেনাসদস্য। এরপর তারা ওই এলাকায় প্রায় ৩ ঘণ্টা অবস্থান করে চলে যায়।
সূত্র আরো জানায়, উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির সময় কয়েকশ বেসামরিক মানুষ আহত হয়। আহত সবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে জায়গা হচ্ছিল না। অনেককেই আহতাবস্থায় বাইরে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। এদিকে জঙ্গিরা শুধু এ হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি।
একই সঙ্গে তারা একটি স্থানীয় থানা ও জাতিসংঘের স্থাপনাও পুড়িয়ে দেয়। যদিও জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ অগ্নিকাণ্ডে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। এছাড়া জঙ্গিরা বাসিন্দাদের কাছে স্থানীয় হাউসা ভাষায় লেখা চিঠিও বিলি করেছে। চিঠিতে তাদের সেনাবাহিনী, শ্বেতাঙ্গ পশ্চিমা খ্রিস্টান ও অবিশ্বাসীদের সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
এদিকে শনিবার একই সময়ে এনগানজাইয়েও জঙ্গিরা হামলা চালায়। দুজন স্থানীয় বাসিন্দা ও সিভিলিয়ান জয়েন্ট টাস্কফোর্সের (সিজেটিএফ) এক যোদ্ধা জানায়, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ট্রাকে করে এসে জঙ্গিরা ৪০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। তবে এ বিষয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। মূলত নাইজেরিয়ার এ অঞ্চলে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রোভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। শনিবারের এ দুই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএসডব্লিউএপি।
