গাছের পাতা খেয়ে থাকলেন লকডাউনে আটকেপড়া বৃদ্ধ!
লকডাউনে আটকে পড়েছেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ। দুই দিন না কোনো খাবার না জোটায় অবশেষে গাছের কচি পাতা চিবিয়ে খেলেন তিনি। আর তা দেখে ওই বৃদ্ধের খাবারের ব্যবস্থা করলেন দুই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, লকডাউনের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা রেল স্টেশনে ঘটেছে এ মর্মান্তিক ঘটনা। আর গাছের পাতা চিবিয়ে খাওয়া বৃদ্ধের নাম গোরক্ষ সিং।
তিনি উত্তরপ্রদেশের নাকাপুরা গ্রামের বাসিন্দা। পর পর দুই দিন অনাহারে থাকার পর স্টেশনের পাশের ঝোপে গিয়ে গাছের কচি পাতা চিবিয়ে খান তিনি।
কেউ এ বৃদ্ধের খাবারের ব্যবস্থা না করায় যখন গাছের পাতা খাচ্ছিলেন তখন তা দেখেন রাজারহাটের দুই যুবক আসাদুল ও ফারুক। এরপর ওই বৃদ্ধসহ কলকাতা স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ২৬ জনের খাবারের ব্যবস্থা করে যাচ্ছেন এ দুই যুবক।
বৃদ্ধ গোরক্ষ সিং টাকা নিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। ৭ বছর আগে তিনি এ রাজ্যের এক ব্যক্তির কাছে রাজমিস্ত্রির মজুরি পেতেন। লকডাউনের আগে ট্রেনে চড়ে কলকাতায় নামেন।
এরপর বিধান নগর স্টেশন লাগোয়া ওই ব্যক্তির বাড়িতে যান। কিন্তু টাকা মেলেনি। এরপরই লকডাউনে শহরে আটকে পড়েন তিনি। ঠাঁই হয় কলকাতা স্টেশনে।
শুধু গোরক্ষ সিং একা নন, বিহারের ছাপরার বাসিন্দা রবীন্দ্র যাদব কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। তিনি অসুস্থ হয়ে তার বাড়িতে চলে যান। লকডাউনের আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে টাকা নিতে আসেন।
লকডাউন ঘোষণার প্রথম দিন পকেটের টাকা দিয়ে পাউরুটি কিনে খেয়েছিলেন। পরের দিন থেকে তার টাকা শেষ হয়ে যায়। টানা দুদিন শুধু পানি খেয়েছিলেন রবীন্দ্র। এখন তার খাবারেরও ব্যবস্থা করেছে আসাদুল ও ফারুক।
এ তালিকায় আরও আছেন উত্তরপ্রদেশের রাকেশ যাদব, শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা করাতে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। বিহারের ৭৫ বছরের সুধীর দত্ত, মথুরা, বৃন্দাবনের কাজল পাল, রায়গঞ্জের মনিকা সিংসহ ২৬ জন রয়েছেন কলকাতা স্টেশনে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন ওই দুই যুবক।
