সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলা নিয়ে জটিলতা
সনাতনী ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্র কেনা বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ তোলা নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা। অটোমেশন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে যেসব বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের মুনাফা’র অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সঞ্চয় অধিদপ্তর।
তবে, সনাতনী ব্যবস্থায় যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, করোনার ছুটির মধ্যে তাদের মুনাফা দেয়া যাচ্ছে না। তবে, সপ্তাহের আরও একদিন বুধবার অফিস খোলা রেখে সনাতনী নিয়মে কেনা সঞ্চয়কারীদের মুনাফা দেবে নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও জনসংযোগ) রাফিয়া বেগম জানান, মোট বিনিয়োগের ৯০ ভাগের বেশি গ্রাহকই সনাতনী ব্যবস্থায় সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। অর্থাৎ গেল জুলাই মাসে অটোমেশন কার্যক্রম শুরুর আগে তারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন।
বড় সংখ্যাক এই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়া থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজ সম্পন্ন করতে হয় অফিসে এসে। তাদের নির্দিষ্ট পাস বই রয়েছে, সেখানেই হিসাব নিকাশ তুলে দেয়া হয়।
তাই করোনা ভাইরাসের কারণে সঞ্চয় অধিদপ্তরের সব কার্যক্রম এখন বন্ধ থাকায় সমস্যা তৈরী হয়েছে। তবে, সপ্তাহের আরো একদিন বুধবার সুরক্ষা নিশ্চিত করে অফিস খোলা রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করবে অধিদপ্তর।
অটোমেশন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেসব গ্রাহক সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তাদের মুনাফা পরিশোধে সপ্তাহে একদিন অফিস কার্যক্রম খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সঞ্চয় অধিদপ্তর। সকাল দশটা থেকে একটা পর্যন্ত অনলাইনেই সেবা দেয়া হচ্ছে। সরকারি ছুটি থাকায় সঞ্চয় ব্যুরো’র অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ওদিকে, মুনাফা উত্তোলন করতে না পেরে, বড় সংখ্যাক বিনিয়োগকারীর মধ্যে হা-হুতাশ তৈরী হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফোন করে উপায় জানতে চাচ্ছেন।
কিন্তু অর্থমন্ত্রনালয় থেকে এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা না থাকায় মুনাফা দেয়া বা কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ে কোনো কিছু করতে পারছে না অধিদপ্তর। মুনাফা তুলে যেসব গ্রাহক সংসারের চাহিদা পূরণ করেন তারা এখন চরম সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে পেনশন সঞ্চয়পত্র গ্রহকদের দুর্ভোগ বেশি।
সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, গেল জানুয়ারী মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা হয় তিন হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। ওই মাসে মোট মুনাফা দেয়া হয় ৮১৩ কোটি টাকা।
সঞ্চয়ব্যুরো’র মাধ্যমে বিনিয়োগ মোট ৬৮১ কোটি টাকা। ৫৫২ কোটি টাকার মুনাফা ওই মাসে উত্তোলন করে বিনিয়োগকারীরা। আর ডাকঘর স্কীমের মাধ্যমে বিনিয়োগ হয়, তিন হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। এসময় মুনাফা হিসেবে গ্রাহক উত্তোলন করে এক হাজার ২১৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জানুয়ারী মাসে মোট বিনিয়োগ হয় সাত হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। আর মুনাফা তুলে নেয়া হয় দুই হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা।
