তালেবান কমান্ডারের জবানিতে পাঞ্জশিরের ঘটনা
মাত্র ৭ দিনে সমগ্র আফগানিস্তান দখল করা তালেবানের পাঞ্জশির দখল করতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে। প্রায় ৩ সপ্তাহ চেষ্টার পর রোববার রাতে আহমদ মাসুদ বাহিনীকে হঠিয়ে পাঞ্জশির দখল করে তারা।
রাজধানী কাবুল থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরের প্রদেশ পাঞ্জশির সর্পিলাকার অসমতল ভূমি। এখানকার রাস্তাগুলো খুবই সরু।
এর এক দিকে পাঞ্জশির নদী, অন্যদিকে কঠিন পাথরের পাহাড়। পাঞ্জশির প্রদেশে এখনও মরিচা ধরা সোভিয়েত বাহিনীর বেশকয়েকটি ট্যাংক পড়ে আছে। এ থেকে ধারণা করা যায়, এই উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
১৫ আগস্ট তালেবান সমগ্র আফগানিস্তানের দখল নিলেও পাঞ্জশির প্রদেশে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন আহমদ মাসুদ বাহিনী। তার সঙ্গে ছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মদী।
পাঞ্জশির দখলের কাহিনী উঠেছে তালেবান কমান্ডারের জবানিতে। তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে পাঞ্জশির অঞ্চলে বসে ওই সাক্ষাৎকারে তালেবান কমান্ডার ঘটনার বর্ণনা দেন।
এক হাতে দূরপাল্লার ওয়াকিটকি এবং কাঁধে একে-৪৭ রাইফেলধারী এই তালেবান কমান্ডার বলেন, তালেবানের কিছু যোদ্ধা এখানে (পাঞ্জশির) রোববার মধ্যরাতে প্রবেশ করে এবং কিছু যোদ্ধা সোমবার প্রবেশ করে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে এই তালেবান কমান্ডার বলেন, পাঞ্জশিরের সকল বিদ্রোহীরা পাহাড় টপকে পালিয়ে গেছে। তালেবান তাদের ধাওয়া করছে।
বিদ্রোহীদের হামলায় মাত্র একজন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয় জানিয়ে তালেবান কমান্ডার বলেন, বিদ্রোহীপক্ষের অনেক যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
তবে সেই সংখ্যা কত তা জানাতে পারেননি তিনি। মাসুদ বাহিনীর হামলায় তালেবানের কয়েকশ যোদ্ধা নিহত হয়েছে এমন খবর তিনি অস্বীকার করেন।
আনাদোলুর ওই সাংবাদিক মঙ্গলবার যখন সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন তখনও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
তালেবানের এই কমান্ডার বিদ্রোহীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমাদের নেতারা তাদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু আত্মসমর্পণ না করলে তাদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে, আহমদ মাসুদ বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি বলেছেন, তাদের হাজার হাজার যোদ্ধা প্রস্তুত আছে। যেকোনো সময় তারা পাঞ্জশিরে ফিরে আসবে।
সূত্র: আনাদোলু এজন্সি, ডেইলি সাবাহ, এএফপি
