ব্রেকিং নিউজঃ

মুক্তিযুদ্ধের চলমান ৮ প্রকল্প গতি বৃদ্ধিতে ২১ সিদ্ধান্ত

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ৮ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরাজ করছে ধীরগতি।

চলতি অর্থবছরের ছয় মাসের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক।

তিনি প্রকল্পের ক্রয় এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের গতি বাড়াতে ২১টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত প্রকল্পগুলোর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং অননুমোদিত প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়।

সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অণুবিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা শনিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পগুলো আগে নানা ধরনের জটিলতার ফলে বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল।

কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন হয়েছে। তাই বাস্তবায়ন গতি আগের তুলনায় বেড়েছে। সংশোধিত এডিপি হওয়ায় অগ্রগতি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

গত ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ৮টি প্রকল্প চলমান।

এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৩৬৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

অর্থ ব্যয়ের এ হার জাতীয় পর্যায়ের গড় হারের চেয়ে কম। এ পরিপ্রেক্ষিতে পর্যালোচনা সভার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর আওতায় ব্যয় হয়েছে ৮০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ‘সব জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটির ক্ষেত্রে চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এগুলো হলো-ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ দ্রুত সমাপ্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় জেলা কমপ্লেক্সগুলোতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যালগুলোর গুণগত মানবিষয়ক প্রতিবেদন পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় উপস্থাপন করতে হবে।

সব জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রকল্পের আওতায় সরবরাহ করা সরঞ্জামাদি বা আসবাবপত্র ব্যবহারের হালনাগাদ বিবরণীর সঙ্গে প্রকল্প দপ্তরের তথ্যাদির তুলনামূলক প্রতিবেদন দিতে হবে।

প্রকল্পের আওতায় ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত সব আসবাবপত্র বা সরঞ্জামাদি সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে।

‘ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটির ক্ষেত্রে তিনটি সিদ্ধান্ত হয়।

এগুলো-সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মৃতপ্রায় গাছগুলো প্রতিস্থাপনের বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রতিবদন দ্রুত মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিকৃত সব পূর্ত কাজ সম্পাদনের অগ্রগতি বিষয়ক একটি প্রতিবেদন দ্রুত জমা দিতে হবে। প্রকল্পের আওতায় আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হবে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির ক্ষেত্রে দুটি সিদ্ধান্ত হয়। যেসব উপজেলা কমপ্লেক্সের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে তা দ্রুত শুরু করতে হবে।

এছাড়া যেসব উপজেলা বা স্থানে জমি প্রাপ্তি দুরূহ হবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে তার বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।

‘মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে দুটি সিদ্ধান্ত হলো-সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবের (আরএডিপি) আলোকে স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর তৈরির কাজ সমাপ্ত করার জন্য জমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ের পাঠাতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় মোট স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর, ইতোমধ্যেই নির্মিত বা বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন এবং দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এমন স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘরের সংখ্যার বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে চারটি সিদ্ধান্ত হয়।

এগুলো-শহিদ ও মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করা তালিকা অনুসরণে কমপক্ষে ৫ হাজার সমাধি নির্মাণের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করতে হবে। একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

নির্মাণের জন্য সমাধি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

সরেজমিন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। প্রকল্পের জনবল নিয়োগ, পণ্য বা সেবা সংগ্রহ ইত্যাদি কার্যক্রম আবশ্যিকভাবে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।

‘নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করণ’ শীর্ষক প্রকল্পে ক্ষেত্রে তিনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এগুলো হচ্ছে-জাদুঘর বাসের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা সমাপ্ত করে মোবাইল উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। জাদুঘর বাস এবং পার্কিংয়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জায়গার সংস্থান করতে হবে।

উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করে সংশোধিত এডিপিতে দেওয়া বরাদ্দ ব্যয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। ‘মুক্তিযুদ্ধকালে শহিদ মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্পে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধন্তের আলোকে সংশোধিত প্রকল্প দলিল দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

এছাড়া ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিগুলো সংক্ষরণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পে দুটি সিদ্ধান্ত হয়।

জমি বন্দোবস্ত বা অধিগ্রহণ ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে টেলিফোনিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রকল্প এলাকা সফর করে প্রতি মাসে একটি করে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় মোট বধ্যভূমি, নির্মাণ শেষ হওয়ার সংখ্যা, কাজ চলমান, দরপত্র আহ্বান বা দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এমন বধ্যভূমির সংখ্যার বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।

 

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

May 2026
F S S M T W T
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031