চরফ্যাশন-মনপুরাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে : নুরুল ইসলাম নয়ন
চরফ্যাশন-মনপুরাকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কৃষি, মৎস্য এবং জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
আজ শনিবার রাজধানীর নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চরফ্যাশন-মনপুরাকে পরিকল্পিতভাবে টেকসই ইকো-ট্যুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্রও সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে চরফ্যাশন ও মনপুরা শুধু ভোলা জেলার নয়, বরং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ভোলা জেলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নদীভাঙন। এই সমস্যা সমাধান করা গেলে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে। তিনি বলেন, শুধু চরফ্যাশন বা মনপুরা নয়, গোটা ভোলা জেলার জন্য নদীভাঙন একটি বড় সংকট। টেকসই প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙ্গন স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ভোলা বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, ভোলায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। একই সঙ্গে এখানকার উর্বর মাটি কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মাছ ধরা ও মাছ চাষেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নদীভাঙন রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
চরফ্যাশন-মনপুরার এ সংসদ সদস্য বলেন, মনপুরা ও চরফ্যাশনের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, নদী, সমুদ্র ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটন বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
তিনি বলেন, সরকার যদি মনপুরাকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে, তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে একটি টেকসই ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হবে।
যোগাযোগ অবকাঠামো প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ভোলাকে শুধু বরিশালের সঙ্গে সংযুক্ত করাই যথেষ্ট নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবাহের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে একটি বিকল্প অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
তার মতে, বেনাপোল, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফকে সংযুক্ত করে একটি বিকল্প করিডোর গড়ে তোলা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধে নেওয়া উদ্যোগ প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পান। সরকারি নির্ধারিত হারের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছিল, যা তার কাছে অন্যায় ও জুলুম বলে মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত খাজনার বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে না। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে চরফ্যাশন-মনপুরার হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। তবে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নুরুল ইসলাম নয়নের ভাষ্য, অতীতে অনেক ক্ষুদ্র কৃষক ও গৃহস্থ বাজারে সামান্য কৃষিপণ্য বিক্রি করতে এসে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতেন। অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দুর্ব্যবহার এবং জোরপূর্বক টাকা নেয়ার মতো অভিযোগও তার কাছে এসেছে।
তিনি বলেন, একজন ক্ষুদ্র কৃষক বা গৃহস্থেরও সম্মান রয়েছে। তাদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে সাধারণ মানুষ স্বস্তির সঙ্গে বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন এবং এ উদ্যোগে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন।
তিনি জানান, চরফ্যাশন ও মনপুরা এলাকায় মোট ৬১টি হাটবাজার রয়েছে। সাধারণ কৃষিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়নি। তবে গরুর হাটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সীমিত পরিসরে মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে চোরাই গবাদিপশু কেনাবেচা বন্ধ করা যায় এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে হাট পরিচালিত হয়।
কৃষকদের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, জাতীয় সংসদে তিনি চরফ্যাশন ও মনপুরার খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। নদীভাঙনের কারণে বহু মানুষ ভূমিহীন হয়ে বেড়িবাঁধের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অন্যদিকে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাসজমি রয়েছে। সেসব জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করা গেলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি জানান, সংসদে এ প্রস্তাব উত্থাপনের পর বিভিন্ন সংসদ সদস্য এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর এখন সংগঠনকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তাঁর নেতৃত্বে একটি দক্ষ, ত্যাগী ও জনসম্পৃক্ত সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।
নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ক্ষুদ্র কৃষক, জেলে, গৃহস্থ, শ্রমজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করাই জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। তিনি বলেন, নদীভাঙনমুক্ত, কৃষিবান্ধব, পর্যটনসমৃদ্ধ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাসম্পন্ন একটি সমৃদ্ধ চরফ্যাশন-মনপুরা গড়ে তোলাই তার অঙ্গীকার।
(বাসস)
