বাবার কবর জিয়ারত করতে জিয়া উদ্যানের পথে তারেক রহমান
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে গুলশানের বাসভবন থেকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানের পথে রওনা হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে বাবার কবর জিয়ারত ও মোনাজাত শেষে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফেরেন তারেক রহমান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিন শুক্রবারই তিনি প্রথম কর্মসূচি হিসেবে বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু। তিনি বলেন, স্মৃতিসৌধ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ আগেই শেষ করা হয়েছে।
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে সাভার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও এলাকা থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন। অনেকেই প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আশায় স্মৃতিসৌধগামী মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, শুক্রবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হয়। নজিরবিহীন সেই জনসমাগমে পুরো রাজধানী যেন জনস্রোতে পরিণত হয়।
পরে বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা ও প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরেন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
