ইসরাইলের আকস্মিক হামলার নির্মম ইতিহাস
শত শত পেজার বিস্ফোরণে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লেবাননজুড়ে। ভয়াবহ এ হামলার ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
ইসরাইলের আকস্মিক হামলা চালানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সাইবার আক্রমণ থেকে শুরু করে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে বিস্ফোরণ, আত্মঘাতী ড্রোন হামলা এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার রেকর্ডও রয়েছে দেশটির।
জুলাই ২০২৪: বৈরুত এবং তেহরানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার ফুয়াদ শুকুর ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করে ইসরাইল।
ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে হানিয়ার নিজ বাসভবনে তাকে হত্যা করা হয়।
জুলাই ২০২৪: দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফকে হত্যাচেষ্টা চালায় ইসরাইল।
সেই হামলায় শিশুসহ ৯০ জন নিহত হয়েছিল। তবে দেইফের মৃত্যু নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা।
এপ্রিল ২০২৪: সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে ইসরাইলের হামলায় ইরানের দুই জেনারেল নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সাহায্যে আক্রমণ করা হয়।
জানুয়ারি ২০২৪ : বৈরুতে ইসরাইলের ড্রোন হামলায় নির্বাসনে থাকা হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা সালেহ আরৌরি নিহত হয়েছিলেন।
ডিসেম্বর ২০২৩ : সিরিয়ায় ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা সৈয়দ রাজি মুসাভি দামেস্কের বাইরে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছিল ইরান।
২০২১ : মধ্য ইরানে একটি ভূগর্ভস্থের পারমাণবিক স্থাপনায় বিস্ফোরণ চালিয়েছিল ইরান। পাশাপাশি একটি বিধ্বংসী সাইবার আক্রমণও চালিয়েছিল।
সে হামলায় দেশজুড়ে অস্থায়ী বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিয়েছিল।
২০২০ : শীর্ষ ইরানি সামরিক পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে হত্যা করেছিল ইসরাইল। তেহরানের বাইরে একটি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময় রিমোট-নিয়ন্ত্রিত মেশিনগানের সাহায্যে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।
২০১৯ : ইসলামিক জিহাদের একজন সিনিয়র কমান্ডার বাহা আবু এল-আত্তার বাড়িতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এ ঘটনায় তিনি এবং তার স্ত্রী নিহত হন।
২০১২ : হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান আহমাদ জাবারিকে বিমান হামলায় হত্যা করে ইসরাইল।
২০১০ : ভাইরাসে সাহায্যে ইরানের পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজগুলোকে ব্যাহত ও ধ্বংস করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়, এটা মার্কিন-ইসরাইল যৌথ পরিকল্পনা ছিল।
২০০৮ : দামেস্কে হিজবুল্লাহর সামরিক প্রধান ইমাদ মুগনিয়াহকে তার গাড়িতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে হত্যা করে ইসরাইল।
২০০৪ : হামাসের আধ্যাত্মিক নেতা আহমেদ ইয়াসিনের ওপর হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ওই সময় নিহত হন তিনি।
২০০২ : হামাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক নেতা সালাহ শেহাদেহ গাজা শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলের এক টন বোমার আঘাতে নিহত হয়েছেন।
১৯৯৬ : হামাসের জন্য বোমা তৈরির কাজ করত ইয়াহিয়া আয়াশ নামে এক ব্যক্তি। বোমা হামলায় তাকে হত্যা করে ইসরাইল।
১৯৯৫ : ইসলামিক জিহাদের প্রতিষ্ঠাতা ফাথি শিকাকিকে মাল্টায় মাথায় গুলি করেছিল ইসরাইল। তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয় তার।
১৯৮৮ : ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের সামরিক প্রধান খলিল আল ওয়াজিরকে তিউনিসিয়ায় হত্যা করেছিল ইসরাইল।
বুধবার ইসরাইলের অমানবিক সেসব হামলার নির্মম চিত্র তুলে ধরা হয়েছে আরব নিউজের প্রতিবেদনে।
