আন্দোলনে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিলে বিক্ষোভ অবরোধ আলটিমেটাম

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে রোববার পৃথক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেছেন তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে কোটা বাতিলে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন।

এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।

এতে যানজটে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।

রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন। আগামী ৪ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন রেখেছেন।

যুগান্তর প্রতিবেদন ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের এক রিটে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ জুন কোটা পুনর্বহাল করে বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান জামান।

রায়ের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী জানান, পুরো কোটা বাতিল না করে শুধু নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের কোটা বাতিল করেছিল। এটা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

এখন থেকে এসব গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তাদের সন্তানদের নিয়োগে আর কোনো বাধা নেই। এরপর ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।

ঢাবি: ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা রোববার তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নামেন। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন তারা।

সেখানে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করেন। পরে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে এসে সমাবেশে মিলিত হন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়-বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘কোটা প্রথা মানি না মানব না’, ‘মেধা না কোটা-মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়-কোটার কোনো ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে বাংলা বিভাগের ছাত্র মাহিন সরকার বলেন, ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে আমরা সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত আলটিমেটাম দিচ্ছি। ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র বহাল করা না হলে আমরা সর্বাত্মক আন্দোলনে যাব।

প্রয়োজনে আমরা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেব। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সুপ্রিমকোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মারকলিপি দেন।

বরিশাল: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ববি শিক্ষার্থীরা। বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী এ অবরোধ করেন।

এ সময় সড়কের দুই পাশে দুই কিলোমিটারজুড়ে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা।

পরে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ববির প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করে।

এ সময় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৈষম্য মেনে নেব না। আমরা আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী কোটা বাদে সব বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

বাসযাত্রী মোতালেব হাওলাদার বলেন, পটুয়াখালী থেকে চিকিৎসা নিতে বরিশাল যাচ্ছিলাম। পথে সড়ক অবরোধ করায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এক ঘণ্টা আটকে ছিলাম।

চবি: চবি শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এ সময় তারা ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা প্রথা বাতিল চাই’, ‘১৮-র হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

এর আগে শনিবার কোটা প্রথার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ করেন চবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ আহমেদ সিয়াম। প্ল্যাকার্ড নিয়ে বুদ্ধিজীবী চত্বরে একাই দাঁড়ান ওই শিক্ষার্থী। এতে লেখা ছিল ‘শতভাগ মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবিতে মানববন্ধন।’

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2024
F S S M T W T
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930