ব্রেকিং নিউজঃ

পাকিস্তানের নাগরিকদের যেভাবে ল্যাবে বিক্রি করলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্বাহী পরিচালকের কাছে ২১ এপ্রিল একটি চিঠি এসে পৌছায়। চিঠিটি এসেছিলো চীনের সিনোফার্মা’র কাছ থেকে। এই চিঠিতে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য অধিদফতর ও চীনের এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরের কথা বলা হয়, যার অধীনে পাকিস্তানের কিছু মানুষের উপর কোভিড-১৯ প্রতিষেধক ভেকসিনের পরীক্ষা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ভারতের এএনআই-এ ড. আমজাদ আইয়ুব মীর্জার প্রকাশিত এক লেখায় এমনটি বলা হয়।

আইয়ুব মীর্জার সেই লেখায় বলা হয়, সিনোফার্মা চীনের রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠান যা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব অ্যাসেট সুপারভিশন অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশন (এসএএসএসি)-এর অধীনে পরিচালিত। এই ভ্যাকসিনের ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়েল’ সফল হবে জানিয়ে এই পরীক্ষা পাকিস্তানের নাগরিকদের ওপর চালানোর অনুরোধ করা হয় এই চিঠিতে।

এখানে যেই পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে তার জন্য যেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন তা পাকিস্তানের জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরে এখনো নেই। আর এই পরীক্ষার প্রথম পর্ব এবং দ্বিতীয় পর্ব একত্রে করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে যা নিশ্চিতভাবে দুশ্চিন্তার একটি কারণ।

এর প্রথম পর্বে ছোট পরিসরের একটি জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। আর প্রথম পর্বের এই পরীক্ষার যেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে তা বিচার বিবেচনা করে দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু করা হবে যেখানে বেশ কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে সংযুক্ত করা হতে পারে কয়েক হাজার মানুষকে।

যেখানে ক্লিনিকাল ট্রায়েলের জন্য সারা বিশ্বের মানুষ পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সকল তথ্য আদান-প্রদান করছে, সেখানে চীন কেনো এই বিষয়টি গোপন রাখছে এবং ভ্যাকসিন থাকলে তা এখনো কেনো ১৫ জনকে নিয়ে গঠিত ছোট পর্বে পরীক্ষা করছে না চীন? এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না ঠিকভাবে।

ধারা করা হচ্ছে ছোট পরিসরে এবং প্রথম পর্বে পরীক্ষা চালানোর পর তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এতটাই মারাত্মক হয়েছে যা চীন বিশ্বের কাছে প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। আর এ কারণেই দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষাটিও তারা দেশে না করে পাকিস্তানের মত ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রে করতে চাচ্ছে।

আর এই ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রের জন্য এর আগেও প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে চীন যা পাকিস্তানের মোট ঋণের এক-পঞ্চমাংশ এবং সেটাও পরিশোধ করতে হবে ২০২৪ সালের মধ্যে।

আর সে কারণেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামোর বেশ কিছু ক্ষেত্রে চীনের হস্তক্ষেপে বেশ বাজে অবস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে দেশটির বার্ষিক অর্থনীতিতে।

আর সে কারণেই পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ংকর ক্লিনিকাল টেস্টের জন্য ‘গিনিপিগ’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে পাকিস্তানের নাগরিকদের। দেশটির স্বাস্থ্য অধিদফতরে দেয়া চিঠির সারমর্ম করলে যা দাড়ায় তা হলো: চীন তার নিজ নাগরিকদের তুলনায় পাকিস্তানের নাগরিকদের মানুষ বলে কমই বিবেচনা করে।

আর দ্বিতীয়ত পাকিস্তান কিছু অদক্ষ সামরিক জেনারেল দ্বারা পরিচালিত যাদের কাছে সিনোফার্মার এই অমানবিক প্রস্তাব এবং নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি অবিচার কোন বড় বিষয় নয়।

আমি বিশ্বাস করিনা দেশটির সর্বোচ্চ মহলের সম্মতি ছাড়া এমন একটি চিঠি ইসলামাবাদের স্বাস্থ্য অধিদফতরে এসে পৌঁছিয়েছে। আর চীনেরও কমিউনিস্ট পার্টি এবং তার এলিট সদস্যদের অনুমোদন ছাড়া এই চিঠি উড়ে পাকিস্তানে এসে পৌঁছায়নি।

নাগরিকদের এভাবে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে নিজের ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি নিজ দেশের নাগরিকদের মাথা উঁচু করে বাচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন যা ধূলিসাৎ হচ্ছে এই অনুমোদনের মাধ্যমে।

ইমরান খানের মত ক্ষমতাহীন এক প্রধানমন্ত্রী এবং জেনারেল কামর জাওয়াদ বাজওয়ার মত দুর্নীতিগ্রস্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টাফের কল্যাণে দেশটির জনগণকে গিনিপিগ বানিয়ে হস্তান্তর করা হচ্ছে চীনের কাছে।

পাকিস্তানের কী এ বিষয়ে মতামত দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে? না, কারণ ভিক্ষুককে কখনো বাছাই করার ক্ষমতা দেয়া হয় না। আর ইমরান খান নিজেকে সবচাইতে একগুঁয়ে ভিক্ষুক হিসেবে প্রমাণ করেছেন, যিনি বিশ্বের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সহজে অর্থ সহায়তা পাওয়া মাধ্যমে পাকিস্তানের ডুবতে থাকা অর্থনীতিকে রক্ষার জন্য। আর এটি তার জনপ্রিয়তার জন্য মোটেও ভালো হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

পাকিস্তানের এই কলাম লেখক ড. আমজাদ আইয়ুব মীর্জা বর্তমানে নির্বাসনে আছেন যুক্তরাজ্যে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

August 2026
F S S M T W T
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031