ব্রেকিং নিউজঃ

বিদেশি পর্যবেক্ষক নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত ইসির

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশি পর্র্যবেক্ষক নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসির দ্বিতীয় দফার বৈঠকে খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

ইসি সূত্র জানায়, বৈঠকে বিদ্যমান নীতিমালার মৌলিক বিষয়গুলোতে বড় ধরনের সংশোধনী না আনার পরামর্শ দিয়েছেন অংশীজনরা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আসতে উৎসাহী হনÑএমন উদার নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ও মেয়াদ, বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ও সরঞ্জামাদি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিদ্যমান নীতিমালাগুলোতেও সংশোধন না আনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ওই পরামর্শের ভিতিত্তে নীতিমালায় বড় ধরনের সংশোধন না আনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা একমত হন।

বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ২৩ আগস্ট ও বৃহস্পতিবার আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছি।

বৈঠকের পরামর্শ অনুযায়ী-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি গাইডলাইনের খসড়া করে আগামী সপ্তাহে কমিশনে উপস্থাপন করা হবে।

কমিশন অনুমোদনের পরে সেটা প্রকাশ করা হবে। নীতিমালায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাপক কোনো পরিবর্তন নেই। কারণ পর্যবেক্ষকবান্ধব গাইডলাইন করার বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

ইসি সূত্র জানায়, একটি বিদেশি পর্যবেক্ষক মিশনের পক্ষ থেকে ইসিকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল-তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এলে ‘ব্রডব্যান্ড গ্লোবাল এরেনা নেটওয়ার্কের (বিজিএএন)’ সুবিধা, স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার, যানবাহন ট্র্যাকার ব্যবহারসহ বেশকিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে চান। এসব আনার সঙ্গে শুল্কের বিষয় জড়িত। বিদ্যমান নীতিমালায় এসব আনার পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বলা নেই।

এ বিষয়গুলো নীতিমালায় যুক্ত করা হবে কিনা-তা নিয়ে দুটি বৈঠকেই আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়-প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি নীতিমালা রয়েছে।

এক্ষেত্রে সেই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। ইসির নীতিমালায় বিষয়টি যুক্ত করার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আলোচনা করতে পারে।

অন্যদিকে ইন্টারনেট ও বিজিএএন সুবিধার বিষয়ে বৈঠকে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিটিআরসির নির্ধারণ করা গতির চেয়ে বেশি গতির ইন্টারন্টে ব্যবহারের সুযোগ বিদেশি পর্যবেক্ষকরা পাবেন না।

জানা গেছে, পর্যবেক্ষকদের ভিসা স্বল্প মেয়াদে তিন সপ্তাহ এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই মাস মেয়াদ দেওয়ার বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা রয়েছে। ওই নীতিমালা মেনে পর্যবেক্ষকদের আসতে হবে। কারণ প্রয়োজনে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা পর্যবেক্ষণের সময় ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি লাইভ করতে পারবেন কিনা সেটি কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও বিদ্যমান নীতিমালায় এটি কঠিনভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

বৈঠকে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) এর ৯১ (গ) অনুচ্ছেদে পর্যবেক্ষকদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচনের আগে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সেই বিষয়টি ইসি থেকে ব্রিফিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

September 2026
F S S M T W T
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930