নিশ্চিত নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুর খুনি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন আটক?
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আরেক খুনি রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেহ উদ্দিনও ভারতে আটক হয়েছেন বলে সেখানকার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
এতে আরো দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় গোয়েন্দারা এই খুনিকে সীমান্তের কোনো একটি অরক্ষিত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশীয় গোয়েন্দারাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোসলে উদ্দিনকে আটকের বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, আটকের বিষয়টি তিনি এখনো নিশ্চিত নন।
পুলিশের একটি উর্ধ্বতন সূত্র পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদকে যেভাবে পাওয়া গিয়েছিল, একইভাবে মোসলেহউদ্দিনকে পাওয়া যেতে পারে। এখন পর্যন্ত সে ধরনের সম্ভাবনা প্রকট।
সূত্রটি আরো বলেছে, আবদুল মাজেদই রিসালদার মোসলেউদ্দিনের খবর গোয়েন্দাদের জানান। সেই সূত্র ধরেই মোসলেউদ্দিনের খোঁজ হয়।
এদিকে, সোমবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ‘মুজিবের আর এক খুনিও কি এই বঙ্গে?’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আব্দুল মাজেদের মতো পরিচয় ভাঁড়িয়ে শেখ মুজিবের আর এক খুনিও দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্রের।
মাজেদকে জেরা করে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার বিষয়ে জানতে পেরেছেন বলে ওই সূত্রের দাবি। ভারতের গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় রিসেলদার (বরখাস্ত) মোসলেউদ্দিন নামে এই প্রাক্তন সেনা অফিসারকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় তার ডেরা থেকে আটক করা গিয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। আবার অন্য একটি সূত্রের খবর, মাজেদ আটক হওয়া মাত্রই নিজের মৃত্যু-সংবাদ ছড়িয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে মোসলেউদ্দিন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট ডিক্লারেশন পেয়েছেন? আমি তো শতভাগ কনফার্ম না হয়ে কিছু বলি না। আমার কাছে পুরোপুরি নিশ্চিত কোনো খবর নেই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় মোসলেহ উদ্দিন অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে তিনিই বঙ্গবন্ধুর ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। তার অবস্থানের বিষয়ে সরকারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকলেও মনে করা হতো তিনি থাইল্যান্ডে পালিয়ে আছেন।
গত ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে বঙ্গবন্ধু খুনের ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আবদুল মাজেদের ফাঁসি হওয়ার পর মোসলেহউদ্দিনসহ ৫ জন পলাতক রয়েছেন। অন্যরা হলেন- খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও এ এম রাশেদ চৌধুরী।
