সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তাব
সরকারের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী)।
রোববার রাতে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে এ প্রস্তাব দেয় দলটি। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেড়ঘন্টাব্যাপী এই সংলাপ হয়।
সংলাপে বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
ন্যাপ ভাসানীর পক্ষে চেয়ারম্যান মো. আজহারুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম মিন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নুরুল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আমিন উল্লাহ, উপদেষ্টা মো. আলতাফ হোসেন, অতিরিক্ত মহাসচিব মো. আকমল হোসেন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, মো. আজমল হোসেন, যুব ন্যাপের সভাপতি মো. শাহিন আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. আয়নাল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাকিব মিয়া ও বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান অংশ নেন।
সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আজকে একটা গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাচনের মাধ্যমে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমাদের মূল দাবিগুলো রয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দেশের প্রায় ৩৫ লাখ গণতান্ত্রিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার এবং এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা, সংসদকে বিলুপ্ত করা, সেই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা করে ভোট করা। আর নতুন নির্বাচনের কমিশন গঠন করে তাদের অধীনে এই ভোট করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে যে সংসদ গঠিত হবে সেখানে আন্দোলনে যে দলগুলো আসবে তাদের সমন্বয়নে একটা জাতীয় সরকারের প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে তাদের সরাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই। তাই এ বিষয়ে জনগণের একটা কার্যকরি আন্দোলন গড়ে তোলা এবং এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। আমরা একটা দূর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবো। সেই লক্ষ্যে একটা যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা একমত হয়েছি।
ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, আজকের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। দেশে যে সরকার বিরোধী দলগুলো আছে তার মধ্যে বিএনপি হচ্ছে এক নম্বর দল। সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপির এখন ৭৬ শতাংশ আসন পাবে। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিবাদি সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে বিএনপি। গত ২৪ মে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে প্রথম সংলাপ করে বিএনপি। পরে পর্যারক্রমে বাংলাদেশ লেবার পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গেও সংলাপ করেছে দলটি।
