যে কারণে মোল্লা আখুন্দকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী করল তালেবান
এতদিন বিশ্ব মিডিয়াজুড়ে আফগানিস্তানের পরবর্তী সরকার প্রধান হিসেবে মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের নাম ওঠে আসছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাবুলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে পরবর্তী তালেবান সরকারের নেতৃত্ব দেবেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।
আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহম্মাদ হাসান আখুন্দ ২০ বছর ধরে তালেবানের সিদ্ধান্ত নির্ধারণকারী বিভাগ ‘রেবারি শুরা’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি সাবেক তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত মোল্লা আখুন্দ তালেবানের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে অন্যতম।
তালেবানের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হলেও ১৯৯০ এর দশকে সোভিয়েতি বিরোধী লড়াইয়ে তেমন ভূমিকা ছিল না আখুন্দের।
তবে তালেবানের মধ্যে ধর্মীয় ইস্যুতে বেশ প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।
২০০১ সালে মোল্লা ওমরকে বুদ্ধ মূর্তি ভেঙে পরামর্শ তিনিই দিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
আখুন্দের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে বলে মনে করা হয়।
২০০১ সালে কাবুলে তালেবান সরকারের পতনের পরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে গঠিত তালেবান ‘কোয়েটা সুরা’র নেতৃত্বে ছিলেন হাসান আখুন্দ।
বারাদারের মতো তাকেও ২০১০ সালে পাকিস্তানে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি মুক্তি পান।
প্রায় দু’দশক ধরে আখুন্দজাদার ঘনিষ্ঠতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্ষণশীল দল তালেবানের ধর্মীয় আর সামরিক- এই দুইটি শাখা রয়েছে।
তালেবানের সামরিক শাখার কাজ হলো লড়াই করা। আর ধর্মীয় শাখার কজ দলের বিভিন্ন বিষয়ে নীতিনির্ধারণ করা।
মূলত তালেবানের দ্বিতীয় শাখাটিই সংগঠনের মধ্যে বেশি গুরুত্ব রাখে। মোল্লা আখুন্দ তালেবানের ওই দ্বিতীয় শাখাটিরই সদস্য।
ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত আখুন্দ তালেবানের সেই সদস্যদের মধ্যে অন্যতম যারা নারীদের অধিকার আর দেশটির সংখ্যালঘুদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বাস করেন না।
১৯৯০ সালে তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে নারীদের শিক্ষাক্ষেত্রে অংশগ্রহণ না করতে দেওয়া, লিঙ্গ বৈষম্য ও পোশাকের ব্যাপারে বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে হাসান আখুন্দের ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।
তালেবানের মধ্যেও রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আবদুল গনি বারাদার সমর্থক ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের সিরাজ উদ্দিন হাক্কানির মধ্যকার কোন্দলের জেরে মধ্যমপন্থা হিসেবে মোল্লা আখুন্দকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
