করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, গ্রামবাসীকে বাঁচাতে ‘আত্মহত্যা’
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১১০০-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬৫৩ জন। এ অবস্থায় এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে দিশেহারা চীনে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে।
চীন থেকে করোনার ত্রাস ছড়িয়েছে ভারতেও। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভারতের বেশ কিছু শহরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রোগীরা। আতঙ্ক গ্রাস করছে সাধারণ মানুষকে। আর সেই আতঙ্কই প্রাণ নিল এক ব্যক্তির। অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তোর জেলার এক গ্রামের বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ভেবে আত্মহত্যা করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজকাল’এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছুদিন আগে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান চীন থেকে ৩২৪ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। যাদের মধ্যে ৫৬ জনই অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা। ৫৩ জন তামিলনাড়ু এবং ৪২ জন কেরলের। স্বাভাবিকভাবেই সে সব রাজ্যেও ছড়ায় করোনার আতঙ্ক। এরই মধ্যে চিত্তোর জেলার ওই ব্যক্তির শরীরে এমন কিছু লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়, যা করোনা ভাইরাসের দিকেই ইঙ্গিত করে। নিশ্চিত হতে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন বছর ৫৪ ওই ব্যক্তি।
নানা পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান তার শরীরে করোনাভাইরাস প্রবেশ করেনি। তবে একটি বিশেষ সংক্রমণের জন্য তাকে মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়া হয়। আর এতেই সন্দেহ দানা বাঁধে ওই ব্যক্তির মনে। এরপর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন স্থানীয়রা। এমনকী এলাকার বাসিন্দাদের ওই ব্যক্তি সতর্ক করেন, প্রত্যেকে যেন তার থেকে দূরত্ব বজার রাখে। নাহলে গোটা গ্রামে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। অবশেষে সোমবার আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজের গ্রামকে বাঁচাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।
তার ছেলে জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই বাবার মনে হয়েছিল, তিনি করোনায় আক্রান্ত। তারপর থেকেই বারবার তিনি বলতে থাকেন, গ্রামবাসীদের রক্ষা করতে তাকে আত্মহত্যাই করতে হবে। হাজার বোঝানো সত্ত্বেও পরিবারের কথা শোনেননি তিনি। মাস্ক পরার আতঙ্কই প্রাণ নিল তার।
