ব্রেকিং নিউজঃ

সরকারের ‘করোনা পলিসি’ জনগণের কাছে রহস্যজনক: রিজভী

মহামারি করোনা ভাইরাস নিয়ে বর্তমান সরকারের পলিসি জনগণের কাছে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, নো কিট, নো করোনা। নো টেস্ট, নো করোনা। নো পেসেন্ট, নো করোনা। যে পলিসি করে ইরান ও ইতালি সরকার তাদের দেশের সর্বনাশ করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে গোটা বিশ্ব থেকে। অথচ আমরাও সেই লুকানোর পলিসি দিয়েই সবকিছু ম্যানেজ করতে চলেছি! উল্টো প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সরকারের এই লুকানো পলিসি যাতে কেউ প্রকাশ না করতে পারে তার জন্য নানা রকমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই লুকানোর পলিসির নাম দিয়েছে ‘গুজব’।

সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দুই মাস সময় পেলেও সরকার সমস্যার দিকে কোনও মনোযোগ দেয়নি। উপদ্রুত দেশগুলো থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনকারী প্রবাসী ভাই-বোনদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণে কোয়ারেন্টাইন করার সরকারি ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির অভাব দেশকে কত বড় বিপদে ফেলতে পারে।

তিনি বলেন,মহাবিপদ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নেই, সমন্বয় নেই, আক্রান্ত রোগী সনাক্তকরণের পর্যাপ্ত উপকরণ ও ব্যবস্থাপনা দেশে নেই; নেই চিকিৎসকদের রক্ষার ব্যবস্থা, নেই যথেষ্ট মাস্ক, স্যানিটাইজার ও ভেন্টিলেটর! পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া সরকার আক্রান্ত সংখ্যার যে তথ্য দিচ্ছে তা বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে টানা দু’দিন বলা হচ্ছে- ‘দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত নেই’।

অথচ পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনসহ মিডিয়ায় প্রতিদিন সর্দি, জ্বর, কাশিতে মারা যাওয়ার খবর দিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হয়েছে গতকালের খবরের কাগজে। কী ভীতিকর পরিস্থিতি! ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট মিডিয়ার খবরের সাথেও সরকারের ব্রিফিংয়ের আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

রিজভী বলেন, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পথে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৩ জন দেশে প্রবেশ করেছেন। শেষ দুই সপ্তাহে এসেছেন পৌনে দুই লাখ মানুষ। এছাড়া এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআরের হট নম্বরগুলোয় সহায়তা চেয়ে ফোন কল এসেছে ৮ লাখ ২ হাজার ৫৮০ জনের। এ পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৬ জনের।

বাকি লোকদের ভেতর কতজন আক্রান্ত তা কেউ বলতে পারছে না। নিজের অজান্তেই ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলে আসছে, করোনা আক্রান্তদের সনাক্ত করতে যত বেশি সম্ভব পরীক্ষা করতে হবে। অথচ সরকারের পুরো ব্যবস্থাপনা হলো পানিতে হালবিহীন নৌকার দুরবস্থা যেমন।

রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন সময় পেয়েও জেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামাদি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ‘দিন আনি দিন খাওয়া’ পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট আগামীতে আরও বাড়বে। জরুরি ভিত্তিতে খেটে খাওয়া মানুষকে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রণোদনা বাড়াতে হবে।প্রায় দুই কোটি মানুষের অবস্থান অতি দারিদ্রসীমার নিচে।

তাদের কাছে খাদ্য সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন দেশের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে এই সরকার দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছুই করছে না। আওয়ামী লীগের নেতা, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ধনিক শ্রেণির জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার কথা বলছে সরকার। তাতে সব চেয়ে দুরবস্থায় পতিত সাধারণ নাগরিকদের দুর্দশা লাঘব করবে কে?

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2026
F S S M T W T
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930