ব্রেকিং নিউজঃ

আজ বর্ষবরণ বিষাদে বিদায় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বুকে করোনার ক্ষত নিয়ে মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ছিল চৈত্র সংক্রান্তি। এদিন সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পুরোনো বছর। দেশবাসী আজ নতুন বাংলা বছরকে বরণ করবে। জীর্ণ, পুরাতন ফেলে নতুনকে বরণ করা হবে মঙ্গলালোকে। শত ফুল ফোটার বসন্ত শেষ হয়েছে চৈত্রের শেষ দিনেই।

বিগত বছরের গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাবো – এবারের নববর্ষে এ হোক আমাদের প্রত্যয়ী অঙ্গীকার।

কবি গুরুর ভাষায় –

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো, আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।
এসো, হে বৈশাখ এসো, এসো …

পাওয়া না পাওয়ার হিসেব কষে আজ বড় হয়ে উঠছে করোনার সংক্রমণ। প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় বাংলা বছরের বিদায় দিনেও বাঙালি জীবনে আজ নেমেছে বিষাদ। বাঙালি সংস্কৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এই দিন। বাঙালির জীবনে ও লোকাচারে বিশেষভাবে চিহ্নিত এই দিনটি। বছরকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর রীতি এ অঞ্চলে আবহমানকালের। তাই রয়েছে প্রস্তুতিও। যদিও পরিস্থিতির কারণে কোথাও এই প্রস্তুতি সীমিত।

বাংলা বছরের এই দিনটিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুণ্য দিন বলে মনে করেন। বাংলা বছরের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা স্নান, দান, ব্রত ও উপবাসের মধ্য দিয়ে অন্যরকমভাবে পালন করেন। বিদায়ের উৎসব পালন করেন ব্যবসায়ীরা।

শুচি-শুদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নতুন করে সাজিয়ে তোলেন। আগের পুরোনো সব জঞ্জাল পরিষ্কার করেন। পুরোনো সব হিসাব চুকিয়ে নতুন হালখাতা খোলার প্রস্তুতি নেয়া হয়। নতুন বছরের প্রথম দিনে হালখাতা খোলা হয়।

ররাজধানীর তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার, লক্ষীবাজার, বাংলাবাজার বা চক বাজারের মতো এলাকায় বছরের শেষ দিন ঘিরে চলবে নতুন আয়োজন। ধুপগন্ধে সুরভিত হবে, নতুন রঙ-ঢঙয়ে শোভিত হবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সারা দেশেই এই প্রস্তুতি রয়েছে। তবে পার্বত্য জেলাগুলোয় কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি, নানা আয়োজন।

এবার করোনার পরিস্থিতি উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। বুধবার থেকে কার্যত লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। করোনায় প্রাণহানি, সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে উৎসব, অনুষ্ঠান সীমিত বা অনলাইন কেন্দ্রিক করা হচ্ছে। চৈত্র সংক্রান্তিতে এবার আগের বছরগুলোর মতে উৎসব মুখর মেলা হচ্ছে না।

দেশের বিভিন্ন স্থানে চৈত্র সংক্রান্তির মেলা উপলক্ষে গৃহস্থরা মেয়ের জামাইকে সমাদর করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। নতুন পোশাক পরিধানের রীতি তো বহু আগের। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে চৈত্র সংক্রান্তি। কথিত আছে, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বর্ণিল নানা আয়োজন সূচনা করা হয়েছিল।

গতবারের মতো এবারও পয়লা বৈশাখসহ সবধরনের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সারা দেশে ১৪ এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম বিধিনিষেধের আরও দুই দিন বর্ধিত করে ১৪ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত চলমান করা হয়। এই অবস্থায় চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। থাকবে না উৎসবের আমেজ। গত বছরের মতো এবারও বর্ষবরণ উৎসবের উপর সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লোক সমাগম এড়িয়ে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করবে গোটা বাঙালি জাতি।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

October 2026
F S S M T W T
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031