• আজঃ বুধবার, ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং
  • English

করোনার টিকা হালাল না হারাম? জানালেন মাওলানা মামুনুল হক

বিশ্বে করোনায় মারা গেছেন প্রায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৮ কোটি ৯৬ লাখ লোক। করোনায় ধরাশায়ী সারাবিশ্ব।

এমতাবস্থায় বিশ্বের নামিদামি ঔষধ কোম্পানিগুলো আনছে করোনার প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন। কিন্তু এসব ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে শূকরের চর্বি থেকে তৈরি জেনিটিন।

এ সম্পর্কে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক এক ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ‘আপনার জিজ্ঞাসা’ নামক এ লাইভে তিনি বলেন, শূকর একটি হারাম প্রাণী।

ইসলামের দৃষ্টিতে শূকরকে সাব্যস্ত করা হয়েছে ‘নাজিসুল আইন’। অর্থাৎ শূকর একটি আপাদমস্তক হারাম প্রাণী। এর পূর্ণ অস্তিত্বটাই হারাম। যেমন মদ, পায়খানা হারাম। তেমনি শূকরও হারাম বা নাপাক।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস এর কারণে সারা পৃথিবী আজ আতঙ্কিত। ভীতসন্ত্রস্ত ও কম্পমান। এ অবস্থায় পৃথিবীর মানুষ একটি সুসংবাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সে সুসংবাদ হলো করোনার প্রতিষেধক বা করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়েছে।

করোনার টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। সেই প্রতিষেধক পৃথিবীর সব মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দেয়া হবে শীঘ্রই এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেছে ঔষধ কোম্পানীগুলো।

যার মাধ্যমে মানুষ করোনা নামক এই ভাইরাসের সংক্রমণ ও আক্রমণ থেকে পরিত্রান পেতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

বিশ্বের বড় বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো করোনার টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করছেন সে টিকা বাজারজাত করবেন খুব শীঘ্রই।

এখন কথা হলো, শূকরের মতো সম্পূর্ণ হারাম একটি প্রাণীর উপাদান দিয়ে তৈরি করা ভ্যাকসিন কি মুসলিমরা ব্যবহার করতে পারবেন? এর উত্তরে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, যদি কোনো প্রসেসিং এর মাধ্যমে শূকরের মৌলিকত্ব পরিবর্তিত হয়ে থাকে, আর সে পরিবর্তিত পদার্থের মাধ্যমে ঔষধ তৈরি করা হয়, তাহলে সে ওষুধ ব্যবহার করতে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে কোন আপত্তি নেই।

আর যদি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার হাকিকত বা মৌলিকত্ব পরিবর্তন করা না হয়। বরং আসল শূকরের চর্বি বা পদার্থ দিয়ে করোনার টিকা আবিস্কার করা হয়।

তাহলে ওই হারাম বস্তু দ্বারা তৈরিকৃত ওষুধের ব্যবহার প্রসঙ্গে ইসলামের বিধান রয়েছে।

সে বিধান হলো, যদি এমন কোন রোগ হয়, যে রোগ মানুষের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং সেই রোগের যদি হারাম বস্তু ব্যতিরেকে হালালভাবে বা হালাল বস্তুর দ্বারা তৈরিকৃত বিকল্প কোনো বস্তু না থাকে তাহলে সেটি এমন একটি অবস্থা যে অবস্থাকে শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ বলা হয়েছে।

ইসলামী শরীয়তের মধ্যে কোরআনে পাকের আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন স্পষ্টভাবে বলেছেন, যে সকল বস্তু হারাম। ভক্ষণ করা হারাম।

যেমন মৃত প্রাণী ও শূকরের গোশত, এগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় মুসলমানদের জন্য খাওয়া হারাম। কিন্তু যদি এমন কোনো অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে জীবন বাঁচানোর প্রশ্ন হয়, তাহলে জীবন বাঁচানোর প্রশ্নে বা জীবন রক্ষার স্বার্থে হারাম বস্তু ছাড়া যদি কোন হালাল খাদ্য না থাকে, তাহলে জীবন রক্ষা করা পরিমাণ হারাম খাদ্য ভক্ষণ করাকে মানুষের জন্য পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন হালাল বা বৈধ ঘোষণা করেছেন।

এই মূলনীতির আলোকে এখন করোনাভাইরাস যেহেতু একটি জীবন বিনাশী ও জীবন বিধ্বংসী একটি রোগ। এ রোগ থেকে মুক্তির জন্য যে ওষুধ আবিষ্কৃত হচ্ছে সেটা ছাড়া যদি বিকল্প কোন ঔষধ না থাকে তাহলে জীবন বাঁচানোর স্বার্থে সেটি বৈধ হতে পারে।

সুতরাং বর্তমানে শূকরের চর্বি দ্বারা আবিষ্কৃত যে করোনার টিকা আসছে সেটির দুটি সম্ভাবনা হতে পারে। তার মধ্যে একটি হল জেনিটিনের প্রসেসিং এর সময় শূকরের চর্বির যে মৌলিকত্ব রয়েছে সেটি যদি অবশিষ্ট না থাকে।

বরং সে মৌলিকত্ব যদি পরিবর্তন হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে তো কোনো সমস্যাই নাই।

আর যদি শূকরের চর্বি দ্বারা টিকা আবিষ্কার করার সময় চর্বির মূল পরিবর্তন না হয়ে গিয়ে থাকে বরং সেটি শূকরের চর্বির মৌলিকত্ব অব্যাহত থাকে তবুও সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে অন্য কোনো বিকল্প না থাকলে সে হারাম বস্তু দ্বারা তৈরিকৃত ওষুধ ব্যবহার করে প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে।

তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফতোয়া বোর্ড এই পরিস্থিতিতে শূকরের চর্বি দ্বারা তৈরি করোনার টিকাকে হালাল এবং বৈধতা দিয়ে ফতোয়া দিয়েছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

January 2021
FSSMTWT
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031