ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা!
ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা আফ্রিকার দেশ মালিতে ফ্রান্সের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে আল-কায়েদা সমর্থিত একটি ইসলামি গোষ্ঠী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে অল্প সময়ের মধ্যে মালির কিদাল, মেনাকা এবং গাও শহরে অবস্থিত তিন ফরাসি ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তারা। ফরাসি বাহিনীর মুখপাত্র থমাস রোমিগুয়ের হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে মেনাকা শহরের মেয়র নানোট কোটিয়া জানান, সামরিক ঘাঁটি এলাকা থেকে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ তিনি শুনতে পেয়েছেন।
তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। গাও শহরের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোর সাড়ে ৫টায় ফরাসি ঘাঁটি লক্ষ্য করে অনেক রকেট হামলা হতে দেখেছেন তিনি।
এদিকে এক বিবৃতিতে আল কায়েদা জানায়, বিধর্মী ফরাসি সেনাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলাম ও মুসলিমদের সমর্থনে এই রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
১০ নভেম্বর উত্তর আফ্রিকার আল কায়েদার শীর্ষ নেতা বাগ আগ মুসাকে হত্যা করে ফরাসি সেনারা।
মালি সেনাবাহিনীর সাবেক এ কর্নেল দেশটির শীর্ষ জিহাদি দল জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিনের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন।
মালিতে পাঁচ হাজারের বেশি ফরাসি সেনা অবস্থান করছে। দেশটির নিরাপত্তায় কাজ করছে তারা।
ইসলাম শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয়। ইসলাম মানব জাতিকে সঠিক পথ দেখায়। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল নবী ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন।
যুগে যুগে বহু মানুষ ভিন্ন ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ইসলাম গ্রহন করলেন কেনিয়ান যুবক অস্টিন আমানি।
কেনিয়ান যুবক অস্টিন আমানি ৬ জানুয়ারি ২০২০ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে। সে মুসলিম হয়েছে।
একটি খ্রিস্টান পরিবারের সদস্য হিসেবে ইসলাম গ্রহণ তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কেননা শৈশব থেকে সে ইসলাম সম্পর্কে নে’তিবাচক ধা’রণা নিয়ে বড় হয়েছে।
ঘট’নার সূ’ত্রপা’ত যখন তার নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় হয় এবং নতুন পরিবেশে সে নিজেকে কিভাবে র’ক্ষা করবে সে বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং নানা কৌ’শল শেখানো হয়।
মিডিয়ার প্রচারণার কারণে আমানির পরিবার ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে অত্য’ন্ত নে’তিবাচক ধা’রণা পো’ষণ করে। তার মা তাকে উপদেশ দেয় সে যেন মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে না মে’শে।
তিনি আমানির সামনে মুসলিমদের যথাসম্ভব ভ’য়ং’কর হিসেবে তু’লে ধ’রলেন। আর এটাই তাকে মুসলিমদের ব্যাপারে ভাবতে বা’ধ্য করল।
স্কুলে যাওয়ার পর আমানি তার মায়ের নির্দেশনা মান্য করে চলল এবং মুসলিমদের থেকে দূরে দূরে থাকল। বিশেষত তাদের সঙ্গে কখনো ওয়াশরুমে যেত না—যখন তারা সেখানে ভি’ড় করত।
কিন্তু আমানির একজন মুসলিম সহপাঠীর সহা’নুভূতি ও উত্তম আচরণ তার দৃষ্টি আক’র্ষণ করে। এই ব্যক্তিই আমানির জীবনে বাঁকবদল এনে দেয়।
আমানি তাকে Mr. FWOW (First Won’der of the World) বলে অবহি’ত করে। তার আচরণ তাকে মু’গ্ধ করল।
বিশেষত সে যখন দেখত মুসলিম সহপাঠী সব সময় সবার সঙ্গে হাসিখুশি, তার ভেতর দু’শ্চি’ন্তার কোনো ছাপ নেই।
এমনকি শিক্ষকের সঙ্গে কোনো সম’স্যায় পড়লেও সে হাসিমুখে থাকে। তার এই সৌহা’র্দপূর্ণ আচরণ মুসলিমদের সম্পর্কে আমানির চি’ন্তাধা’রা পা’ল্টে দেয়।
সে তাদের কাছে ঘেঁ’ষতে শুরু করে। মুসলিম সহপাঠীর কাছে তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ওয়াশরুমে বেসিনের সামনে ভিড় করে তোমরা কী করো? সে জানাল, ধর্মীয় প্রার্থনার (নামাজের) আগে আমরা নিজেদের পবিত্র করি—যাকে অজু বলা হয়।
উত্তর শুনে মুসলিমদের সম্পর্কে তার ধা’রণা আরো ইতিবাচক হলো। ঘনি’ষ্ঠতা বাড়ার পর আমানিকে তার মুসলিম বন্ধুরা ইসলাম সম্পর্কিত কিছু বই ও কোরআনের একটি ইংরেজি অনুবাদ দিল।
যা বিছানার নিচে রেখে সে গো’পনে পড়তে লাগল। কোরআন পাঠের সম্পর্কে আমানির বক্তব্য হলো, ‘কোরআন পাঠ শুরু করার পর আমার শরীরে আমি অপার্থিব প্রশান্তি অনুভব করি—যা আমি আর কখনো অনুভব করিনি।
মানবজীবনের সব রহ’স্য আমি কোরআনে খুঁ’জে পেয়েছি।’ ইসলামের প্রতি আমানির মনে ভালোবাসার যে বীজ বোপিত হয়েছিল তা ফলবান বৃক্ষে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
সে এমন একটি ধর্মবিশ্বাসের সন্ধা’নে ছিল যা তাকে জীবনে সুখী হতে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে জীবনযাপন করতে সহায়ক হবে।
সুতরাং সে কারো পরামর্শ ছাড়াই দ্রু’ত স্থানীয় মসজিদে যাওয়ার এবং গো’পনে ‘কালেমা’ পাঠ করার সিদ্ধা’ন্ত নিল।
কিন্তু তার চলাচলের অবাধ সুযোগ বা অনুমতি ছিল না। শুধু পারিবারিক কাজেই সে বের হতে পারত। সুতরাং তাকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হলো।
আমানি তার মা-বাবার কাছে একটি ফটোগ্রাফি কোর্সে অংশগ্রহণের অনুমতি চাইল এবং তারা তাতে সম্মত হলো।
এটাই তাকে নাইরোবি শহরের একটি মসজিদে যাওয়ার এবং ‘কালেমা’ পাঠের সুযোগ এনে দেয়। ৬ জানুয়ারি ২০২০ আমানি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন।
