• আজঃ শনিবার, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং
  • English

ব্লাসফেমি: কী করলে ধর্মীয় অবমাননা হয়? আইনে কী আছে? শাস্তি কি?

ফ্রান্সে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে অনেক দেশে বিক্ষোভ চলছে। বাংলাদেশেও এই নিয়ে বড় ধরণের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্বের অনেক দেশে ধর্মীয় অবমাননা, বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’এর ২০১৭ সালের রিপোর্টে ৭১টি দেশের তালিকা উঠে আসে যেখানে ব্লাসফেমি আইন রয়েছে।

এই আইনের অধীনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’ এর মতে ২০১৭ সালে ৭৭টি দেশের আইনে ‘ব্লাসফেমি, ধর্ম অবমাননা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অনুরূপ আচরণ’কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই প্রতিবেদনে বলা হয় ইসলামিক দেশগুলোতে ব্লাসফেমি আইনের অনুশীলন হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

তবে এই ধরণের আইন ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক জায়গায়ই কার্যকর রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের আইনে ধর্মীয় অবমাননা বিষয়ে কি বলা হয়েছে? কী করলে ধর্মীয় অবমাননা হয়? এক্ষেত্রে শাস্তির বিধানই বা কি?

কী করলে ধর্মীয় অবমাননা হবে?

বাংলাদেশের আইনে বলা হয়েছে, ধর্ম অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

কোন ধর্মীয় স্থানের ক্ষতি সাধন, অসম্মান করা, লিখিত বা মৌখিকভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি, অসম্মান করার উদ্দেশ্যে ধর্মীয় স্থানে অনধিকার প্রবেশ বা ধর্মীয় বাক্য বা শব্দের বিকৃতি ধর্মীয় অবমাননা বলে গণ্য হবে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ”বাংলাদেশের আইন কোন নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়।

সব ধর্মের অনুসারীরাই তাদের ধর্মানুভূতি আহত হলে এই আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন। তবে সাধারণত দেখা যায়, ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীরাই এই আইনের আশ্রয় বেশি নিয়েছেন।

অন্য ধর্মবিশ্বাসের অনুসারী বাংলাদেশে ধর্মবিশ্বাস আহত হওয়ার অভিযোগে এই আইনের সহায়তা নিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।

আইনজীবীরা বলছেন, বাংলাদেশের আইনে ধর্মানুভূতি আঘাত করার অভিযোগে মামলা করার বা বিচার প্রক্রিয়ায় শাস্তির উদাহরণ বেশি নেই।কিন্তু ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ বা পিটিয়ে হত্যার ঘটনা অনেকবার ঘটেছে।

বাংলাদেশের আইন ও শাস্তি

বাংলাদেশে যে আইনে ফৌজদারি অপরাধের বিচার করা হয়, সেই ১৮৬০ সালের ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে ধর্মীয় অবমাননার বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন রয়েছে।

আইনটি ১৯২৭ সালে সংশোধন করে নতুন একটি ধারা যোগ করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই আইনটি সামান্য পরিবর্তন করে গ্রহণ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বাংলাদেশে বা ভারতে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা বা ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে অনেক আগে থেকেই আইন রয়েছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৬০ সালে যে ফৌজদারি দণ্ডবিধি তৈরি করা হয়, সেখানেই এ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

পরবর্তীতে যদিও সেটি কিছু কিছু সংশোধিত হয়েছে।”এই আইনের ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধারায় ধর্মীয় অবমাননার ব্যাখ্যা ও শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে।

যেকোনো ধর্মের মানুষের জন্য তাদের বিশ্বাস আহত হলে ফৌজদারি দণ্ডবিধির আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। ‘তিনি বলছেন।

সুএ বিবিসি

 

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

November 2020
FSSMTWT
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930