• আজঃ শুক্রবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
  • English

বিচার বিভাগের সবাইকে কাজ করতে হবে

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বিচার বিভাগের উন্নয়ন হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের চার মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা হবে।

অবকাঠামো নির্মাণ করাই বিচার বিভাগের দায়িত্ব শেষ নয় উল্লেখ করে  মন্ত্রী বলেন,  যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়বিচার জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আসল সম্মান কিন্তু আমরা পাবো না।

তাই জনগণের কাছ থেকে আসল সম্মান পাওয়ার জন্য বিচার বিভাগের সকলকে একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে পটুয়াখালীতে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে  এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন,আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা-যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে- এই সাংবিধানিক অঙ্গীকারের  আলোকে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

কারণ আইনের শাসনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আইনের প্রয়োগ ও কার্যকারিতা। যে সমাজে আইনের শাসন নেই, সেখানে আইনের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত।

আইন মানুষকে যেমন নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনই মর্যাদাবান ও পরিশীলিত করে।

আইন যেখানে অচল, মানবাধিকার সেখানে ভূলুণ্ঠিত।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত রয়েছে সমাজ-সভ্যতার ক্রমবিকাশ।

তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সাথে বিচার বিভাগের মানোন্নয়ন জড়িত।

সেজন্য মানসম্পন্ন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর  নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথক হলে আদালতসমূহে বিশেষ করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহে এজলাসের অপ্রতুলতা দেখা দেয়।

ফলে বিচারকগণ এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারিক কাজ চালাতে থাকেন। কিন্তু তাতে করে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ যেমন ভোগান্তির শিকার হতে থাকেন, তেমনি মামলার জট দিনের পর দিন বাড়তে থাকে।

মন্ত্রী বলেন, আজ এই চার তলা ভবন উদ্বোধনের ফলে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।

তিনি জানান,  এটাকে আট তলা করা হবে এবং আগামী বছরই অবশিষ্ট ৪ তলার নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তখন দুর্ভোগ পুরোপুরি কেটে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, এই আদালত ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য তখনই সফল হবে যখন বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই স্ব-স্ব দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালন করে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন।

পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ রোখসানা পারভীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান মিয়া,  আ.স.ম ফিরোজ, এস এম শাহজাদা ও মো. মহিববুর রহমান, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মইনুল হাসান প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

October 2020
FSSMTWT
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031