• আজঃ বুধবার, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
  • English
ব্রেকিং নিউজঃ

থানাগুলোকে দালাল মুক্ত করতে চান সিএমপি কমিশনার

নগরীর ষোলো থানাকে দালাল মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

প্রয়োজনে নিজ কার্যালয়ে বসে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে থানাগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করার’ও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপি কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার ৩ দিনের মাথায় মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব ঘোষণা দেন।  এছাড়া সিএমপিতে কর্মরতদের পেশাদারিত্বের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে থানাকে দালালমুক্ত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রতিটি থানায় গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিন থেকে চারটি ক্যামেরা থাকবে।
আমার অফিস থেকে মনিটরিং করা হবে। থানায় যে কে আসল, কে গেল সেটা মনিটরিং করা হবে।
তবে থানা তো পাবলিক অফিস, এখানে যে কেউ আসতে পারে। আমরা খেয়াল রাখব যে, থানায় যাতে আইনের বাইরে পুলিশের সেবার মূল কেন্দ্র হচ্ছে থানা।
সেগুলোকে আমরা নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনব। ডিজিটালাইজেশন করা হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে নিবিড়ভাবে সেবা পান, সেটা আমরা অবশ্যই মনিটরিং করব।
এছাড়া পুলিশের পেট্রোলিংকে আরও বেগবান করার জন্য যা যা দরকার সেটা করার চেষ্টা করব।’

চট্টগ্রাম নগরীর বেহাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ট্রাফিকের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আছে।
এনফোর্সমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং। এখানে এনফোর্সমেন্টটাই মূলত আমাদের দায়িত্ব। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসেছি। তাদের কাছে সাজেশন পেপার চেয়েছি।
তাদের অভিজ্ঞতা থেকে তারা যেন আমাকে জানায়। একেবারে স্পটভিত্তিক সমস্যাটা জানতে চেয়েছি। তারা সমস্যা চিহ্নিত করে আমাকে জানাবে। তারপর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে বসব।
উনার চিন্তাভাবনাটা জেনে সমন্বিতভাবে কাজ করব।’
তিনি বলেন, শহরের বড় অংশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। এর প্রভাব তো অবশ্যই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর পড়ছে। রাস্তার মানও ভালো না।
চট্টগ্রাম বন্দর আছে। সেখানে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবে বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহনও বেড়েছে। এখানে এককভাবে সিএমপিকে দায়ী করলে হবে না।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তো আর সিএমপিকে বলে-কয়ে শুরু হয় না। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা ট্রাফিক ডিভিশনকেও ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনব।
রাস্তায় আমাদের যেসব সহকর্মী আছেন, তাদের নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবশ্যই করব।’
বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এটা আমরা অত্যন্ত প্রফেশনালি ডিল করব।
কোনো ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। প্রত্যেককে তার নিজের দায় নিতে হবে।
করোনাকালে মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য সিএমপির যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে, সেটি ধরে রাখার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।
তিনি বলেন, ‘মানবিক পুলিশিংয়ের যে কনসেপ্ট সিএমপিতে আছে, অনন্য উদ্যোগ, এটাকে আরও বেগবান করার চেষ্টা করব।
সিএমপির অর্জনটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করব। উন্নয়নের সুযোগ যেখানে আছে, সেখানে কাজ করার চেষ্টা করবো। আমার সহকর্মীরা অবশ্যই দৃঢ়প্রতিজ্ঞভাবে সিএমপির এই মান ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। সিএমপিকে আরও পেশাদার, মর্যাদাসম্পন্ন, জনবান্ধব এবং মিডিয়াবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব।’
পেশাদারিত্বের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো, শীর্ষপর্যায় থেকে তদারকি নিবিড় করা এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তদন্তের মান উন্নয়নের কথাও বলেছেন সিএমপি কমিশনার।
কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাকেও আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কিশোর গ্যাংয়ের একজন ছাতা থাকেন, যিনি শেল্টার দেন।
আমরা জানিয়ে দিতে চাই, তাকেও আমরা স্পর্শ করব। সিএমপির মধ্যে অপরাধ করে কেউ আনটাচ থাকবে না।’
বিশ্বের উন্নত বিভিন্ন মহানগরীর মতো ‘সেফ সিটি’ ধারণার বাস্তবায়ন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মিডিয়া সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিন বছর আগে সিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।
অনুষ্ঠানে সিএমপির তিন অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম, শ্যামল কুমার নাথ ও মোস্তাক আহমেদ এবং উপ-কমিশনার (সদর) আমীর জাফর উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

October 2020
FSSMTWT
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031