শেরপুরে বন্যায় কৃষিতে ক্ষতি সাড়ে ২৭ কোটি
সাম্প্রতিক বন্যায় শেরপুর জেলায় কৃষিতে ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার উৎপাদিত ফসল ও মৎস চাষীদের ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূল্যের মাছ ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষয় ক্ষতির পরিমান লিখিত ভাবে সরকাকে জানানো হয়েছে বলে জেলার কৃষি বিভাগ ও মৎস বিভাগ জানিয়েছে। দুই বিভাগের নির্ধারিত ক্ষতির পরিমানের চেয়ে বাস্তব ক্ষতির পরিমান আরও অনেক বেশী বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের দাবি সরকার দ্রুত এসব ক্ষতিগ্রস্থ চাষিদের পাশে দাঁড়াক।
শেরপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার কৃষি উৎপাদনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে মোট ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের রুপা আমন বীজ তলা, রুপা আমন ক্ষেত.আউস, সবজি ও পাটে ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে বৃহত্তর চরাঞ্চলের কৃষকদের।ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার চরাঞ্চল জুড়ে প্রায় দেড় সপ্তাহ সবজি ক্ষেতগুলো পানির নীচে থাকায় সবজি পঁচে গেছে।
জানা গেছে, ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে। রুপা আমনের বীজ তলা ডুবে নষ্ট হয়েছে ৮শ ৪২ হেক্টর জমির। অপরদিকে জেলার মৎস বিভাগ সূত্র জানিয়েছে ভারি বর্ষণ ও বন্যায় জেলার মৎস প্রকল্প ও ছোটবড় মোটামোটি সব পুকুর ডুবে একাকার হয়ে যায়। সরকারি হিসাবেই বড় মাছ অসংখ্য মাছ বের হয়ে গেছে ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। এই ক্ষতি বেশী হয়েছে সদর ও নকলা উপজেলাতে। জেলা মৎস কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও পূর্ণবাসনের জন্য সরকারকে জানানো হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ফকির মোঃ মোবারক আলী জানিয়েছেন, বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছেন। ক্ষয় ক্ষতির পরিমান সরকারকে জানানো হয়েছে। জেলার কৃষি বিভাগ বীজতলা তৈরি করছে ও কৃষকদের মধ্যে সবজির বীজ বিতরন করা হবে। আর কি ধরনের সহযোগীতা করা যায়- সরকার বিবেচনা করছে।
