ফের বন্যার সংঙ্কা
লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে আবারো বাড়তে শুরু করেছে দেশের বেশ কয়েকটি নদীর পানি। আগস্টের শেষে দেশে টানা বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আগেই দিয়ে রেখেছিলো আবহাওয়া বিভাগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। যা আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকতে পারে। একইসঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘনা অববাহিকার নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া পদ্মা ও গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে।
এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, সাগরে লঘুচাপ থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি সোমবারও অব্যাহত থাকতে পারে। চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে মাসের শেষদিকে স্বল্পমেয়াদী বন্যার কথা বলা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু এখনও দেশের ওপর সক্রিয়। তাই থেমে থেমে বৃষ্টি হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।
রোববার (১৬ আগস্ট) দেশের চারটি নদীর চার পয়েন্টে পানি আবার বেড়ে বিপদসীমার ওপরে অবস্থান করছে। তবে গত কয়েকদিনে প্রায় সব নদীর পানিই বিপদসীমার নিচে চলে এসেছিল। গুড় নদীর সিংড়া পয়েন্টের পানি এখন বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে ১, ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে ১২ এবং পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আগামী ১০ দিনের পূর্বাভাসেও নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ার কথা জানিয়েছে।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনা নদীর পানি বাড়তে পারে। ফলে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি, সিরাজগঞ্জ জেলার সিরাজগঞ্জ ও কাজীপুর, জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ, টাঙ্গাইল জেলার এলাসিন এবং মানিকগঞ্জ জেলার আরিচা পয়েন্টে পানি আগামী তিন দিনের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া পদ্মা ও গঙ্গা নদীর পানিও বাড়তে পারে। ফল রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্ট, মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুল পয়েন্ট এবং শরীয়তপুর জেলার সুরেশ্বর পয়েন্টে পানি বাড়তে পারে। গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি আগে বাড়তে পারে। এরপর সুরেশ্বর ও ভাগ্যকুল পয়েন্টে পানি ১৮ আগস্টের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
