বিপদে ঐক্য আর বিপদ কেটে গেছে মনে করে অবহেলা করা আত্মঘাতী: ইনু
বিপদে ঐক্য আর বিপদ কেটে গেছে মনে করে অবহেলা করা আত্মঘাতীর সামিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
শুক্রবার বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইনু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে বড়র অহংকার এবং ছোটর হীনমন্যতা পরিহার করা উচিৎ। বিপদে ঐক্য আর বিপদ কেটে গেছে মনে করে আত্মপ্রসাদে ভুগে ঐক্যকে অবহেলা করা আত্মঘাতী।
এটা ভুলে গেলে চলবে না যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন এবং তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা রাজনৈতিক ঐক্যেরই ফলাফল।
হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকনের পরিচালনায় এ সভায় বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, সহ-সভাপতি নুরুল আকতার, শফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ মোহসীন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (ন-মা) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননী প্রমুখ।
সভাপতির ভাষণে হাসানুল হক ইনু বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় বাঙালি জাতির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম গৌরব ও অহংকারের বিষয়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি প্রমাণ করেছে পৃথিবীর কোনো শক্তিই বাঙালি জাতিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না।
৩০ লাখ শহিদের আত্মবলিদান, দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম, কোটি কোটি মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি অতীতের সকল বিভ্রান্তি, বিতর্ক, অমীমাংসিত বিষয়ের চূড়ান্ত মীমাংসা, ফয়সালা, সমাধান করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে মীমাংসিত ফয়সালা সমাধানের ভিত্তিতেই ১৯৭২ সালের সংবিধান রচিত হয়েছিল।
জনাব ইনু বলেন, জাতির দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি মুক্তিযুদ্ধে মীমাংসিত বিষয়সমূহ ও সংবিধানকে অস্বীকার করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করছে।
সামরিক শাসক জিয়ার চাপিয়ে দেয়া রাজনৈতিক দল বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, পাকিস্তানপন্থির মূল ধারক, বাহক, দুর্গ।
জনাব ইনু বলেন, জাসদ, ১৪ দলসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রী প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, মহল, গোষ্ঠী, ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি ও তাদের রাজনৈতিক সঙ্গীদের ক্ষমতা পুনর্দখলের আন্দোলন প্রতিহত করতে হবে, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির সাথে কোনো রাজনৈতিক লেনদেন, সমঝোতার সুযোগ নেই। যত নির্মমই হোক বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানপন্থী এই অশুভ রাজনৈতিক শক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ থেকে চির বিদায় দিতেই হবে।
