ব্রেকিং নিউজঃ

করোনার মধ্য জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করছেন

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় একমাস হয় ঘরে আছেন অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর। তবে বাসায় যে একেবারেই অবসর কাটাচ্ছেন তা কিন্তু নয়। বাসায় থেকেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন। করছেন অসুস্থ মায়ের সেবা। সেই সঙ্গে জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করছেন।

করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে বাসায় বন্দি আছেন। কিভাবে সময় কাটছে?

বাসায় থাকলেও করোনা ভাইরাস নিজের ভেতর কিছুটা মানসিক অস্থিরতা কাজ করছে।  আমার দীর্ঘ এ ক্যারিয়ারে বাসা এতোটা লম্ভা সময় কখনও থাকা হয়নি। কাজের জন্য বাইরে বাইরেই থাকা হয়েছে বেশি। হুট করে এতো লম্বা সময় বাসায় থাকতে কিছুটা হলেও  কষ্ট হচ্ছে তবে ব্যোরিং হচ্ছিনা।

বাসায় এখন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়েই বেশি কাজ করছি। বাসার কাজের পেছনে যথেষ্ট টাইম দিচ্ছি। আমার মা একজন ক্যান্সারের রোগী। তাই আগে থেকেই বাসার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয় আমাদের। এখন সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছি।

বাসায় থেকেই মানুষজনকে সচেতন করছি। সাধ্যমতো যতটা পারি অন্যদের সাহায্য করছি। অনেক বছর পর আবার বই পড়া শুরু করেছি। নাটক- সিনেমা দেখছি। নতুন করে বাগানের পরিচর্যাও শুরু করেছি। বাসায় ভাই-ভাবি আছেন। ভাবির সঙ্গে দারুন সময় কাটাচ্ছি। দুইজনে মিলে রান্না-বান্নায় সময় দিচ্ছি। মোটকথা নিজেকে প্রপার সময় দিচ্ছি এখন।

আগে নিজেকে এভাবে কখনও সময় দেয়া হয়েছে কি?

দশ বছরে পরিবার ও নিজেকে এভাবে কখনও সময় দেয়া হয়নি। আর দেবোই বা কি করে এতো লম্ভা সময় কখনই কাজ বন্ধ ছিলো না। শুধু আমি নয় যারা রেগুলোর কাজ করেন তারা কেউ হয়তো এতো বড় গ্যাপ পাননি।

এই দীর্ঘ দিন ঘরে থাকা। এতে আগামীর যাপিত জীবনে কোন প্রভাব পড়বে কি?

আসলে আমরা যারা মিডিয়ায় কাজ করি। তাদের কাজের ব্যস্ততা এতো থাকে যে পারিবারিক জীবন আমরা ভুলে যাই। বলা যায়া পরিবারিক জীবন বলে আমাদের কিছু থাকেনা। অথচ আমরা কিন্তু চাইলেই পরিবারকে মাসের চার-পাঁচটা দিন অনায়াসেই দিতে পারি।

শুধু মিডিয়ায় নয় সব সেক্টরেই যারা কাজ করেন তাদের পারিবারিক জীবন থাকেনা বললেই চলে। মানুষরা পারিবারের সঙ্গে থাকলে,পরিবারকে সময় দিলে তার মধ্যে অপরাধ  করার মানসিকতা থাকেনা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালে মানুষ মানবিক হয়ে উঠে। আমার মনে হচ্ছে, পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ এই সময় থাকার ফলে অনেক মানুষের জীবন যাত্রাতেই ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

কি ধরনের নাটক-সিনেমা দেখছেন এখন ?

মানসিক প্রশান্তি আসে সে ধরণের নাটক সিনেমাই দেখা হচ্ছে। পুরোনো দিনের নাটকের বিশাল একটা লিস্ট করেছি। সে লিস্ট দেখে দেখেই নাটক দেখা হচ্ছে। আর সিনেমার ক্ষেত্রের দেশের সিনেমার বাইরেও হলিউডের মুভিগুলো দেখা হচ্ছে। মূলত মন ভালো থাকবে এমন নাটক-সিনেমাই দেখছি।

করোনাকালে নিজের উপলব্ধি কি?

নতুন উপলব্ধি হচ্ছে আমাদের পরিবারকে সময় দিতে হবে। এখন বাসায় ধর্মীয় প্রার্থনায় সময় দেয়া উচিত। আমি মনে করি বাসা থাকার পাশাপাশি এটা আমাদের আত্মশুদ্ধির সময়। এই সময়টা যার যার ধর্ম পালন করা উচিত। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা উচিত। কাজের ব্যস্ততা আমরা ধর্মটাকেও ভুলে যাই। কাজের অজুহাতে আমরা অনেক কিছু না করার চেষ্টা করি। আমি মনে করি আত্মশুদ্ধির জন্য এটা উত্তম সময়।

করোনার এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কি পরিকল্পনা?

বাসায় বসে আছি। করোনার এই পরিস্থিতি কেটে গেলে বাসা থেকে দুই-তিন মাসের জন্য বের হয়ে যাবো। মানে ঘুরতে যাবো। বাংলাদেশ ঘুরে দেখা শেষ। দেশের বাইরেও অনেক দেশ ঘুরেছি। এবার নতুন কোন জায়গায় যাবো। দীর্ঘ একটা সময় দেশের বাইরে ঘুরে ঘুরে কাটাবো। তবে আপাতত সবার কাছে দোয়া চাই যেনো করোনা না হয়। সবাই করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকুক।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

June 2026
F S S M T W T
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930