সাগরে উৎপত্তির অপেক্ষায় ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’
বঙ্গোপসাগরে উৎপত্তি হতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে দু-একদিনের মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।
এটি পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ২৬ মে নাগাদ ভারতের ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে এটি আছড়ে পড়তে পারে।
এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হলে এটির নাম হবে ‘ইয়াস’। নামটি দিয়েছে ওমান। আরবি শব্দ ‘ইয়াস’ অর্থ হচ্ছে ‘মরিয়া’।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) এবং ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হতে পারে ২৫ মে।
আবহাওয়া ব্যবস্থা অনুযায়ী এর আগে সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হবে। পরে তা নিম্নচাপে পরিণত হবে, যা তৃতীয় ধাপে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে।
লঘুচাপটি ২২ মে-র মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে সাগরে। আইএমডি জানায়, ওড়িশা থেকে বাংলাদেশের সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম এলাকা পর্যন্ত ইয়াসের প্রভাব পড়তে পারে।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ দেশি-বিদেশি সব আবহাওয়া সংস্থার আশঙ্কা, বঙ্গোপসাগরে বাতাসের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
বিভিন্ন সংস্থার কম্পিউটার মডেল বলছে, ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের আনুমানিক গতি হতে পারে ১০০-১১০ কিলোমিটার।
আশঙ্কার কথা, ঘূর্ণিঝড় বা এর আগের পর্যায়গুলো (লঘুচাপ ও নিম্নচাপ) সাগরে যত বেশি সময় ধরে থাকে, তত শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পায়।
তাই শেষ পর্যন্ত এটি যে সুপার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, ২১ মে আন্দামান সাগরে বর্ষা হতে পারে।
অপরদিকে যে কোনো ঘূর্ণিঝড় প্রচুর আর্দ্রতা নিয়ে আসে, যা ব্যাপক বৃষ্টি ঝরায়।
তাই দুটি মিলে বেশ বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত সামনে রেখে উপকূল ও নগরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
উপকূলের বাঁধগুলো ও আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত এবং দুর্গত মানুষকে সহায়তা প্রস্তুতি নেওয়ার বেশ সময় আছে।
আর ভারী বর্ষণ থেকে যাতে নগরবন্যা না-হয়, সেজন্য শহরের ড্রেন ও খালগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
