২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে
বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পেপারবুক (মামলার রায়ের কপি, এফআইআরসহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ওই পেপারবুক সরকারি ছাপাখানা (বিজি প্রেস) থেকে প্রস্তুত করে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান পেপারবুক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছানোর তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার ফলে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানির পথ খুলল। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। একটি মামলার যাবতীয় নথি (নিম্ন আদালতের রায়, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জেরা, আসামির জবানবন্দিসহ সকল নথি) একসাথে যুক্ত করে বাঁধাই করা নথিকেই পেপারবুক বলে। এই পেপারবুক প্রস্তুত না হলে হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয় না।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল হয়। একটি হত্যা এবং অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে। এরপর বিচার শেষে পৃথকভাবে দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর দেয়া এই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা অনুমোদনের জন্য দুটি মামলায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার এই রায়ের কপি (ডেথ রেফারেন্স) ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছিল হত্যা মামলায় ৩৬৪ পৃষ্ঠা ও বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় ৩০৭ পৃষ্ঠার মূল রায়। এরপর কারাবন্দী আসামিরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এ অবস্থায় পেপারবুক প্রস্তুত করতে বিজি প্রেসে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলার রায় একই সাথে ঘোষণা করা হয়। হত্যা মামলায় ১৯ জনকে ফাঁসির দণ্ড, ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ১৯ জনকে ফাঁসি এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই ৩৮ জনকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অন্য ধারায় ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুই মামলায় আলাদাভাবে সাজা দেয়া হলেও তা একযোগে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
