• আজঃ বুধবার, ১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং
  • English

ক্ষীরার বাম্পার ফলনে কৃষকের হাসি

Send Free SMS Online

ঐতিহ্যবাহী চলনবিল এলাকার সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনার তাড়াশ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, সিংড়া, চাটমোহর ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবার ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে হাট-বাজারে ক্ষীরার দাম মোটামুটি ভাল থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ মৌসুমি ক্ষীরা যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এবার এসব এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ক্ষীরা চাষ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষীরা চাষ হয়েছে সান্দুরিয়া, সড়াবাড়ী, বারুহাস, দিঘুরিয়া, দিয়ারপাড়া, তালম সাতপাড়া, নামো সিলট, কোহিত, সাচানদিঘি, তেঁতুলিয়া, ক্ষীরপোতা, মেলাপাড়া, দেশীগ্রাম, শীতপাড়া, খোসালপুর, বরগ্রাম, বিয়াস আয়েস, খাসপাড়া, বড় পওতা, নাদু সৈয়দপুর, নওগাঁ, চরপাড়া, নাইমুরি, পিপুলসোন গ্রামের মাঠের পর মাঠ ক্ষীরার চাষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আবহাওয়া অনেকটা অনুকূলে থাকায় এবং বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ অনেকটাই স্বল্পমূল্য পাওয়ায় এ ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘুরিয়ায় প্রায় দেড় মাস আগে গড়ে উঠেছে ক্ষীরার মৌসুমি হাট।

এছাড়া এ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষীরা উৎপাদন হওয়ায় রানীরহাট, মান্নাননগর, কোহিত ও হাটিকুমরুলসহ অনেক গ্রামঞ্চলে গড়ে উঠেছে ক্ষীরা বিক্রির অস্থায়ী আড়ত। এসব আড়ত ও হাটে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগাম ও বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে ক্ষীরা কিনে নিয়ে যায় ট্রাকযোগে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এ বছর ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষীরা চাষে খরচ বাদে এবার অনেকটাই লাভ হচ্ছে। তবে শীত মৌসুমে এ ক্ষীরার দাম কিছুটা কমে গেলেও গরম মৌসুমে তা বাড়বে। দিঘুরিয়াহাটসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন আড়তে প্রতি মণ ক্ষীরা গড়ে ৪শ থেকে ৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর হাটবাজারে খুচরা মূল্য বিক্রি হচ্ছে গড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি।

এ অঞ্চলের অনেক কৃষকের নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি লিজ নিয়ে এ লাভজনক ক্ষীরার আবাদ করেছেন। এমনকি মৌসুমি ক্ষীরা চাষে এলাকায় জমি লিজ পাওয়াই যায় না। প্রায় প্রতি বছরই ক্ষীরা চাষে কৃষকরা লাভ পাওয়ায় অধিকাংশ কৃষকই এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়ে। বিঘাপ্রতি জমিতে ক্ষীরা চাষে খরচ বাদে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করে লাভ হচ্ছে।

দিঘুরিয়া ক্ষীরার আড়তের ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ বলছেন, তাড়াশের দিঘুরিয়া ক্ষীরার আড়ত থেকে মৌসুমের সময় স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনে এ ক্ষীরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলনবিল এলাকায় এবারও ক্ষীরা চাষে কৃষকরা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। এ চাষাবাদে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমি ক্ষীরা চাষীদের যথাসময়ে পরামর্শও দেয়া হয়েছে। এ পরামর্শে ক্ষীরা চাষীরা লাভবান হচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

April 2020
SSMTWTF
« Mar  
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930