সারাদেশব্যাপী সংবাদাতা নিয়োগ চলছে... বিস্তারিত
  • আজঃ মঙ্গলবার, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই আগস্ট, ২০২০ ইং
  • English

ভারতে চীনবিরোধী বিক্ষোভ নতুন গতি পেয়েছে

লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় অন্তত ২০ সেনা নিহতের পর ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা প্রতিশোধ এবং বাণিজ্য সম্পর্ক খর্বের দাবিও তুলেছে। বার্তা সংস্থা এএনআই ও পিটিআই’র খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে চীনের পতাকা, চীনা পণ্য এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পুতুল পুড়িয়েছে। এদিকে দিল্লির ডিফেন্স কলোনির নাগরিক কল্যাণ সংস্থা (আরডব্লিউএ) চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার পর গত সোমবার উভয় পক্ষ সংঘাতে জড়ায়। ওইদিন লাদাখের সুউচ্চ পর্বতমালায় গালওয়ান নদীর পূর্ব পার ধরে টহলে বেরিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্টের একটি প্যাট্রোল পার্টি।

তাদের সঙ্গেই চীনা সেনাদের তীব্র সংঘাত হয়। ভারতের অভিযোগ, লাইন অফ কন্ট্রোল উপেক্ষা করে তাদের সীমান্তে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনারা। বেইজিং-এর পাল্টা অভিযোগও একই রকম। ওই ঘটনায় ভারতের অন্তত ২০ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি। এর জেরেই ভারতে চীনবিরোধী বিক্ষোভ নতুন গতি পেয়েছে।

উত্তর প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, পুড়িয়ে দেওয়ার আগে সাবেক এক আইনপ্রণেতা জিনপিংয়ের পুতুলে কুঠার দিয়ে কোপাচ্ছেন। এদিকে দিল্লির অভিজাত এলাকা ডিফেন্স কলোনির নাগরিক কল্যাণ সংস্থার প্রেসিডেন্ট মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) রণজিত সিংয়ের পাঁচ মিনিটের এক অডিও বার্তা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে তিনি চীনের হাতে ভারতীয় সেনাদের ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের’ সমালোচনা করে চীনা পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছেন।

চীনা পক্ষ বিশ্বাসঘাতকতা করে ভারতীয় সেনাদের হত্যা করেছে দাবি করে অডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আজ আপনাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি ডিফেন্স কলোনির হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বন্দুক ও গুলি তুলে নিতে পারছি না, কিন্তু অবশ্যই অন্য পথও আছে। আমরা চীনের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পারি, আর আজ আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এখন থেকে চীনের পণ্য বর্জন করুন এবং বাড়িতে কিছু থেকে থাকলে এখনই ফেলে দিন।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন উত্তর প্রদেশের বারানসিতেও চীনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। এছাড়া পাটনা, বিহার, গুজরাটের আহমেদাবাদ, ভাদোদরা, সুরাটেও বিক্ষোভ হয়েছে। এসব স্থানেও চীনের পতাকা এবং শি জিনপিংয়ের ছবিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

সুরাটের একটি আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ করতে সাংবাদিকদের সামনে চীনের তৈরি এলসিডি টেলিভিশন ভেঙে ফেলেছে। সেখানকার এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা এখানে সব ধরনের চীনা পণ্য বর্জন করেছি। এখন চীনকে শিক্ষা দেওয়ার সময়।’

পাটনার অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘পাকিস্তানে যেভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছিল সেই রকমভাবে চীনেও অভিযান চালাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ করছি। ক্ষোভ প্রকাশ করতে আমরা চীনের পতাকা ও প্রেসিডেন্টের ছবি পুড়িয়ে দিয়েছি।’

বার্তা সংস্থা পিটিআই প্রকাশিত এক ছবিতে মুম্বাইয়ের বিজেপির এমএলএ রাম কদমকে চীনা পণ্য পুড়িয়ে দিতে দেখা গেছে।

একই ধরনের বিক্ষোভ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় বজরং দল। জম্মু অঞ্চলের বেশকিছু এলাকায় এসব সংগঠনের বিক্ষোভ টায়ার জ্বালানো আর ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধের পর শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।

ভারতজুড়ে এসব বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় চীন সরকারের মুখপাত্র বলে বিবেচিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার খবরে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে, চীনবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে জনমত উস্কে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভারতের জন্য চরম বিপজ্জনক হবে। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দিকে ইঙ্গিত করে পত্রিকাটি বলেছে, চীন এবং চীনা পণ্য অর্থনৈতিকভাবে বর্জন করা হলে দুই দেশই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

ফেসবুকে লাইক দিন

Latest Tweets

তারিখ অনুযায়ী খবর

August 2020
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031